দুই নিলামে ১০ কোটি টাকার চা বিক্রি করে রেকর্ড ন্যাশনাল টি’র
Led Bottom Ad

দুই নিলামে ১০ কোটি টাকার চা বিক্রি করে রেকর্ড ন্যাশনাল টি’র

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

১১/১২/২০২৫ ১৯:৩৩:২১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

প্রতিকূল আবহাওয়া, শ্রমিক অসন্তোষ আর দীর্ঘদিনের লোকসান সত্ত্বেও চায়ের গুণগত মান ধরে রেখে চলতি মৌসুমে রেকর্ড বিক্রি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)। পরপর দুই নিলামে কোম্পানির উৎপাদিত চা সর্বোচ্চ দরে বিক্রি হওয়ায় খাতটিতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর, মদনমোহনপুর, পাত্রখোলা, কুরমা, চাম্পারাসহ এনটিসির অন্তর্গত ১৩টি বাগানে এ বছর চায়ের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চট্টগ্রাম চা নিলামবাজার–সংশ্লিষ্টরা জানান, গুণগত মান বৃদ্ধির কারণে ক্রেতাদের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।


চট্টগ্রাম নিলামবাজারের ৩০ নম্বর নিলামে এনটিসির উৎপাদিত চা প্রায় ৪ কোটি টাকায় বিক্রি হয়। পরের নিলামে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি টাকায়। দুই নিলাম মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার চা বিক্রি হওয়ায় লোকসান কাটিয়ে আবার লাভজনক অবস্থানে ফিরেছে কোম্পানির বাগানগুলো।


কোম্পানি–সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং গুণগত মান নিয়ন্ত্রণই এ সাফল্যের মূল উপাদান।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে এনটিসির বাগানগুলোতে জৈবসার ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কাঁচা পাতা সংগ্রহে মাননিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়। শ্রমিকদের ‘দুটি কুঁড়ি ও একটি পাতা’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে উৎপাদিত চায়ের রং, স্বাদ ও ঘনত্বে উন্নতি আসে।


মাধবপুর চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক দীপন সিনহা বলেন, “নিয়মিত মনিটরিং, পরিকল্পিত উৎপাদন ও শ্রমিক–কর্মচারীদের আন্তরিকতার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। বাজার অনুকূলে থাকলে ভবিষ্যতে রপ্তানিতেও ভালো অবস্থান তৈরি হবে।”


তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচ এস এম জিয়াউল আহসানের দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। বাগানগুলোর মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, সময়মতো উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে—যার ফল মিলেছে নিলামে।


এনটিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক সংকটে থাকা কোম্পানি এখন ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ভালো অবস্থানে আছে। উৎপাদন ব্যয় কমানো, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং মান ধরে রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


তিনি জানান, চা উৎপাদনের পাশাপাশি এনটিসি রাবার বাগান পরিচালনাতেও অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে পাঁচটি বাগানে রাবার উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।


চা–খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিলামবাজারে এ বছরের ইতিবাচক সাড়া রাষ্ট্রীয় চা শিল্পে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad