জ্বালানি তেলের সংকটে সিলেট,পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা
সিলেটজুড়ে দিন দিন বাড়ছে জ্বালানি তেলের সংকট। ফিলিং স্টেশনে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় প্রতিটি স্টেশনে শুরু হয়েছে হাহাকার। অনেকে ‘ড্রাই’ হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। সামনে জাতীয় নির্বাচন—তারপরই বোরো মৌসুম। ঠিক এমন সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানির তীব্র সংকট সিলেটের ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতে নেমে এনেছে চরম অনিশ্চয়তা।
আগে সপ্তাহে দু’টি রেলওয়ে চালানে জ্বালানি পণ্য পেত সিলেট। এখন দুই সপ্তাহেও একটি চালান পাওয়া যাচ্ছে না। রেলওয়ের এই উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি—সমস্যা আগেই জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। গত বৃহস্পতিবার যমুনা অয়েল কোম্পানির বছরের শেষ কার্গো সিলেটে পৌঁছেছে। কিন্তু আনলোডে সময় লাগবে রবিবার পর্যন্ত—এবং সরবরাহও স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেট বিভাগীয় পেট্রোলিয়াম অ্যাসোসিয়েশনের জরুরি বৈঠকে পুরো পরিস্থিতিকে “জরুরি অবস্থা” বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে—যেকোনো সময় পুরো সিলেট ডিভিশন জ্বালানি শূন্য হয়ে যেতে পারে।
কেন এমন ভয়াবহ সংকট?
সুরমা নদীতে যমুনা অয়েলের জেটিঘাট থাকায় তারা কার্গো জাহাজে তেল আনতে পারত। কিন্তু নাব্যতা সংকটের কারণে আগামী সপ্তাহ থেকে কার্গো আসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এটি সিলেট অঞ্চলের সামনে ভয়াবহ এক সংকট তৈরি করবে। অপরদিকে পদ্মা ও মেঘনা পুরোপুরি রেলওয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু রেলওয়ের অনিয়ম, গাফিলতি ও অদক্ষতার কারণে দুটি প্রতিষ্ঠানের সিলেট ডিপো কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে। তাছাড়া, কৈলাশটিলা থেকে উৎপাদিত পেট্রোল ও অকটেন সিলেটে সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ উল্টো রশিদপুরে পাঠিয়ে সেখান থেকে সারাদেশে বিতরণ করছে।
কিন্তু সিলেট অঞ্চলে চাহিদামতো সরবরাহই দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে রশিদপুর থেকে তেল আনতে গেলে শ্রমিকরা নানা হয়রানির শিকার হন—ফলে পরিবহনকারীরাও ক্ষুব্ধ ও নিরুৎসাহিত।
পদ্মা অয়েল পিএলসির সিলেট ডিপোর মার্কেটিং অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলেন—“সংকট আছে, জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। তিনি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবেন বলেছেন। কিন্তু সমাধান আমাদের হাতে নেই।”
মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপোর মার্কেটিং অফিসার সৈয়দ আলম বলেন—“চেষ্টা করছি; কিন্তু সরকার আন্তরিক না হলে সমাধানের সুযোগ নেই।” এই বক্তব্যই ব্যবসায়ীদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান—ঢাকা–সিলেট–তামাবিল ছয় লেন মহাসড়কের কাজে চলমান অরাজকতার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে থাকা,ভাঙা সড়কে ট্যাংকলরি চালাতে গিয়ে ভয়াবহ ক্ষতি,সবকিছুই তেল আনা প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।
সংগঠনের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আহমেদ বলেন—“বিপিসির স্থানীয় কর্মকর্তারা সবসময় দায়সারা জবাব দেন। সিলেটের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। একে আপৎকালীন সময় বলতেই হবে।” আগামী দিনগুলো আরও ভয়াবহ হতে পারে
জানাগেছে, জ্বালানি সংকট যদি এখনই সমাধানের পদক্ষেপ না নেওয়া হয়—তাহলে বোরো মৌসুমে সেচে সমস্যা সৃষ্টি হবে। পরিবহন খাতে অচলাবস্থা এবং বাজারে দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। একই সাথে স্তবিরতা দেখা দিবে শিল্প-কারখানা কার্যক্রমে। সব মিলিয়ে পুরো সিলেট বিভাগে জ্বালানি বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: