হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন আটকের দাবি ইরানের

হরমুজে মার্কিন সাবমেরিন আটকের দাবি ইরানের

প্রথম ডেস্ক

০৯/০৯/২০২৬ ১১:৩০:২৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চালকবিহীন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করার দাবি করেছে ইরান। এর মধ্য দিয়ে সামরিক অভিযানে পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার একটি বিরল চিত্র সামনে এসেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, জব্দ করা যানটি ডাইভ-এলডি মডেলের একটি বড় স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান। এটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল তৈরি করেছে।

প্রায় ১৯ ফুট বা ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই ডুবোযানটি সমুদ্রের নিচে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তার ও পাইপলাইনের মতো পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শনের মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায় বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে তারা মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক, বুদ্ধিমান ও চালকবিহীন একটি ডুবোযান আটকে দিয়েছে। তাদের দাবি, যানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে।

তবে ইরানের এই দাবি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেছেন, একটি পানির নিচের ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে পড়েছিল।

পেন্টাগনের ওই মুখপাত্র বলেন, আঞ্চলিক জলসীমায় চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য ড্রোনটি নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছিল। তবে বিকল হওয়া ড্রোনটি ছিল পুরোনো মডেলের। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা ছিল না এবং এতে গোপন কোনো সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।

ইরানের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। পেন্টাগনও তাদের বিবৃতিতে ইরানের দাবি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেনি। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি অ্যান্ডুরিল।

সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী চালকবিহীন নৌযান ব্যবস্থায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। নাবিকদের ঝুঁকিতে না ফেলে তুলনামূলক কম খরচে এসব কাজ পরিচালনাই এর অন্যতম লক্ষ্য।

অ্যান্ডুরিলের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি একটি ঘাঁটিতে ফিরে না গিয়ে টানা ১০ দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারে। এটি সর্বোচ্চ প্রায় ৬ হাজার মিটার বা ১৯ হাজার ৭০০ ফুট গভীরতায় ডুব দিতে সক্ষম।

মার্কিন সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ডাইভ-এলডি ইউনিটের দাম প্রায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক তৎপরতার সঙ্গে অত্যাধুনিক চালকবিহীন ডুবোযানের উপস্থিতি ও ব্যবহার নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তৈরি করেছে।

রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad