জাবি মেডিকেল সেন্টার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, সিএমওর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাবি মেডিকেল সেন্টারকে ঘিরে ওষুধ ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ, সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এনেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ জাকসু এর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক। তিনি প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা সিএমও ডা. শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে তার অপসারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার(২৩ জুলাই) জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক এক ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
হুসনী মোবারক বলেন, মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের হিসাব-নিকাশে গরমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা দাবি করেন, স্টোররুমের চাবি বা ওষুধ সংরক্ষণের দায়িত্ব তার কাছে নেই বিষয়টি ডেপুটি রেজিস্ট্রারের অধীনে পরিচালিত হয়। তবে একজন প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, স্টোররুমের একাধিক চাবি কোথায় রয়েছে এবং কার কাছে সংরক্ষিত আছে, তা প্রকাশ করা উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় ডা. শামসুর রহমান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে নিজের নাতি মেহেদী হাসানকে কম্পিউটার সহযোগী এবং নিজ গ্রামের শরিফুল নামে একজনকে কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। এসব নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মেডিকেল সেন্টারে টিটেনাস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হুসনী মোবারক। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীদের টিটেনাস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি, যদিও সংরক্ষিত ভ্যাকসিন মজুত ছিল। এর মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নতুন ভ্যাকসিন কেনার জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকার বিল নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তার মেয়ের জন্য মেডিকেল সেন্টারের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে বাসা থেকে খাবার, কাপড় এবং পানীয় পানি পাঠানো হতো।
করোনা ও ডেঙ্গু মহামারির সময় রিএজেন্ট ও মেডিকেল কিট কেনাকাটায় নিয়মিত ক্রয় কমিটি গঠন না করে সরাসরি কেনাকাটা করা হয়েছে এবং এতে বিপুল অঙ্কের অর্থের অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিসিএস ক্যাডার অ্যালামনাই কর্তৃক দান করা দুটি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তার বাসায় রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন হুসনী মোবারক। বর্তমানে মেডিকেল সেন্টারে দুটি ভিন্ন মডেলের কনসেন্ট্রেটর থাকলেও আগের দানকৃত একটি যন্ত্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ওষুধ ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগে ওষুধ কেনার দায়িত্ব প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তার ওপর থাকলেও সে সময়ের ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রশাসন এর নেতৃত্বে পৃথক ক্রয় কমিটি গঠনের পর একই বাজেটে আরও বেশি ও বৈচিত্র্যময় ওষুধ সরবরাহ সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তার দাপ্তরিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। হুসনী মোবারকের অভিযোগ, গত এক মাসে তিনি মাত্র আট দিন রোগী দেখেছেন এবং রোগীর সংখ্যাও ছিল খুবই কম। পাশাপাশি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা এবং রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং অভিজ্ঞ ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগের দাবি জানান।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: