শাসালেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে
গোয়াইনঘাটে সড়ক সংস্কারকাজের অনিয়ম দেখতে গেলেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার হাকুর বাজার- মানিকগঞ্জ সড়কের সম্প্রতি শেষ হওয়া সংস্কারকাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার টনক নড়লো সিলেট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সংষ্কার কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন সিলেটের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মামুন খান। এ সময় তিনি সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে কাজের গুণগত মান যাচাই করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে নির্বাহী প্রকৌশলী কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার এনাম উদ্দিন তাপাদারকে ‘রুচি খারাপ’ মন্তব্য করে তিরস্কার করেন। একই সঙ্গে নিম্নমানের কাজ না করে নির্ধারিত নকশা ও সরকারি মানদণ্ড অনুসরণ করে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
এ সময় গোয়াইনঘাটের উপজেলা প্রকৌশলী হাসিব আহমদ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার এনাম উদ্দিন তাপাদারসহ এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মামুন খান বলেন, ৫ কি:মি: সংষ্কারের কাজটি ৮১ লক্ষ টাকায় চুক্তি হয়েছে ঠিকাদারের সঙ্গে। আমাদের চুক্তি এখনও চলমান। কাজের পূর্ণ বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি। বৃষ্টি পুরোপুরি থামলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমি এখানে যেটা দেখলাম, রাস্তার দুইপাশ উঁচু এবং উভয় পাশে বাঁশঝাড় থাকায় বৃষ্টি হলেই সড়কের ওপর পানি জমে থাকে। এ কারণে আমরা এখানে ইউনিব্লক অথবা আরসিসি ঢালাই করার পরিকল্পনা করছি। বিষয়টি সম্পর্কে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ও অবগত আছেন। এছাড়া কাজ করার সময় যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকলে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, পানি চলাচলের পথ দখলমুক্ত রাখা ও সম্মিলিত উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে হাকুর বাজার-মানিকগঞ্জ সড়কের সংস্কারকাজের মান নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ধারাবাহিক খবর প্রকাশিত হয় এবং বিষয়টি আলোচনায় আসে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: