সিলেটের বড়শলায় বিষ দিয়ে ৩১টি হাঁস হত্যার অভিযোগ

নারীকর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি

সিলেটের বড়শলায় বিষ দিয়ে ৩১টি হাঁস হত্যার অভিযোগ

প্রথম ডেস্ক

১৮/০৭/২০২৬ ১৬:৫৫:০১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন বড়শলা এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে খাবারে বিষ মিশিয়ে ৩১টি পাতি হাঁস হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধা আতরজান বেগম (৬২) বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৭ জুলাই (২০২৬) বিকেলে বড়শলা এলাকার  যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদ চৌধুরীর মালিকানাধীন ভূমিতে।


অভিযোগে চারজন নামধারী ও অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন— গোলাপগঞ্জের বসন্তপুর গ্রামের (বর্তমানে বড়শলা আহমদ হাউজিংয়ের বাসিন্দা) মৃত নিমার আলীর ছেলে সিলেটের বহুল বিতর্কিত,সমালোচিত মিসবাউল ইসলামের ভাই আজিজুল ইসলাম (৪৮), কামরুল ইসলাম মঞ্জু (৪৫), আতিকুল ইসলাম (৪০) এবং ইসরাব আলীর ছেলে জানু মিয়া (৫২)।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী আতরজান বেগম ও তার সহযোগী মোঃ আব্দুল জব্বার বড়শলা এলাকার মরহুম জিয়া উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে বসবাস করে আসছেন। বিবাদী পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ওই জায়গার সীমানায় ময়লা-আবর্জনা ও মলমূত্র ফেলে পরিবেশ নষ্ট আসছিল।


গত ১৭ জুলাই বিকেল অনুমান সাড়ে ৪টার দিকে ১নং বিবাদী আজিজুল ইসলাম ও ৪নং বিবাদী জানু মিয়া দুটি প্লাস্টিকের বালতিতে করে বিষ মিশ্রিত ভাত ভুক্তভোগীদের জমির সীমানায় ফেলে দেয়। কিছুক্ষণ পর আতরজান বেগম ও আব্দুল জব্বারের খামারের ৪৫-৫০টি পাতি হাঁস সেখানে গিয়ে সেই বিষাক্ত ভাত খায়।


ভাত খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাঁসগুলো গুরুতর অসুস্থ হয়ে ছটফট করতে করতে মারা যেতে থাকে। বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ৩১টি হাঁস মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২১ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়া আরও ১২টি হাঁস গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেগুলোকে জবাই করা হয়। মৃত হাঁসগুলোর মুখ থেকে বিষাক্ত লালা ঝরছিল এবং সেখান থেকে বিষের তীব্র গন্ধ আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকি


হাঁস মারা যাওয়ার পর আতরজান বেগম ১নং বিবাদী আজিজুল ইসলামের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে অন্য বিবাদীরাও ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে বা কাউকে জানালে ভুক্তভোগীদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করা এবং হাঁসগুলোর মতোই তাদেরও 'খুন' করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।


পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করে ভুক্তভোগী আতরজান বেগম ন্যায়বিচারের আশায় এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad