সুনামগঞ্জে ঢেউ প্রতিরক্ষা দেয়ালে ফাটল, ঝুঁকিতে ৪৫০ পরিবার
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের রংচী গ্রামের সামনে নির্মিত ঢেউ প্রতিরক্ষা দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। দেয়ালের একাধিক অংশ ডেবে যাওয়ায় এটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা না হলে টাঙ্গুয়ার হাওরের বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে যেকোনো সময় দেয়ালটি ভেঙে গিয়ে গ্রামের বাড়িঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওরের পশ্চিম তীরবর্তী জনপদ রংচী গ্রামে প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে বসতি গড়ে ওঠে। বর্তমানে গ্রামটিতে প্রায় ৪৫০টি পরিবার বসবাস করছে। হাওরের প্রবল ঢেউ ও স্রোতের আঘাত থেকে গ্রামটিকে রক্ষার জন্য ২০১১-২০১২ অর্থবছরে সরকারি অর্থায়নে একটি প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দেয়ালটির বিভিন্ন অংশে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং একাধিক স্থান ধসে গেছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি এবং টাঙ্গুয়ার হাওরের তীব্র ঢেউয়ের কারণে প্রতিরক্ষা দেয়ালটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে দেয়ালটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গ্রামের বাড়িঘরও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে দুর্যোগের তীব্রতা বাড়ার আগেই প্রতিরক্ষা দেয়ালটি পুনর্নির্মাণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এর উচ্চতা বৃদ্ধি করে স্থায়ী ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় রংচী গ্রাম বড় ধরনের ভাঙনের কবলে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
এ বিষয়ে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, “রংচী গ্রামের সামনের ঢেউ প্রতিরক্ষা দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি অংশ ডেবে যাওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। তবে এ ধরনের অবকাঠামো সংস্কারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কোনো বরাদ্দ নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে। তারপর তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেয়ালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।”
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “হাওরাঞ্চলের ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
লতিফুর রহমান রাজু
মন্তব্য করুন: