বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি
বাহুবলে এক যুগেও চালু হয়নি ৩ কোটি টাকার ট্রমা সেন্টার
হবিগঞ্জের দুর্ঘটনাপ্রবণ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাহুবল ট্রমা সেন্টারটি এক যুগেও চালু হয়নি। ২০১৩ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর ধরে জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি অবহেলায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মূল্যবান অনেক যন্ত্রপাতি ও মালামাল ইতোমধ্যে চুরি হয়ে গেছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর থেকে নবীগঞ্জের আউশকান্দি পর্যন্ত অংশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে; কিন্তু বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টারটি চালু না থাকায় গুরুতর আহতদের সিলেট বা ঢাকায় পাঠানোর পথেই অনেকের মৃত্যু হয় অথবা তারা স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণের এক দশক পর গত বছরের ৮ জুন গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে এবং পরবর্তীতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ কোনো পদ এখনো অনুমোদিত না হওয়ায় কাউকে পদায়ন করা সম্ভব হয়নি; এমনকি অপারেশন থিয়েটারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও এক্স-রে মেশিনের মতো মৌলিক সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়নি।
বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী জানান, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পত্র পাঠানো হয়েছে।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাক্তার রত্নদীপ বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত এই ট্রমা সেন্টারটি চালু করা গেলে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে ট্রমা সেন্টারের নির্ধারিত ভবনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাধারণ কিছু কার্যক্রম চললেও মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ ট্রমা সেবা এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: