১৪ কিলোমিটার খননের দাবি
সিলেটে কুশিয়ারা-বরুরদল সংযোগকারী ‘লোলাখাল’ দখল-দূষণে বিপন্ন
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কৃষি ও মৎস্যজীবীদের প্রাণরেখা হিসেবে পরিচিত কুশিয়ারা ও বরুরদল নদীর সংযোগকারী ‘লোলাখাল’ এখন দখল ও দূষণে বিলীন হওয়ার পথে। উপজেলার বিয়ানীবাজার পৌরসভা সহ কুড়ারবাজার, মোল্লাপুর, লাউতা ও তিলপাড়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত এই গুরুত্বপূর্ণ খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও পূর্ণাঙ্গ খননের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ ও ২০১৮ সালে দুই দফায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে খালের উৎস মুখ থেকে এক কিলোমিটার অংশ খনন করা হলেও প্রভাবশালী দখলদারদের কারণে এর কোনো সুফল মেলেনি। উল্টো পলি জমে এবং দখলদারদের চাপে খালের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে, যার ফলে শত শত একর ফসলি জমি অনাবাদী থাকছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এক সময় দেড়শ ফুট প্রস্থের এই স্রোতস্বিনী খালে বড় নৌকা চলাচল করলেও এখন কুড়ারবাজার বৈরাগীবাজার সংযোগস্থলসহ বিভিন্ন এলাকায় খালের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। পৌরসভার শ্রীধরা, কসবা, লাসাইতলা এবং মোল্লাপুর ও কুড়ারবাজারের বিভিন্ন অংশে দখলদাররা খালকে সংকুচিত করে ফেলেছে। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আলী আহমদ ও আব্দুল করিম জানান, আগে এই খালে মাছ শিকার করে অনেকের জীবিকা চলত, কিন্তু এখন বর্ষাকালেও পানি থাকে না। এমনকি লোলাখালের শাখা ‘বাবুর খাল’ ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে তিন ফসলি জমিও চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস জানিয়েছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লোলাখালের প্রস্থ পুনরুদ্ধার ও খননের প্রস্তাবনা পাঠানো হচ্ছে। বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার খালের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বিয়ানীবাজারে যদি একটি খাল খনন করতে হয়, তবে সেটি হবে লোলাখাল।” ইতোমধ্যে খালের পুরো ১৪ কিলোমিটার অংশ খননের জন্য দাপ্তরিক প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, এবার কেবল আংশিক নয়, পুরো খাল খনন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে বিয়ানীবাজারের কৃষি অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনা হবে।
লোলাখালের সীমানা নির্ধারণ বা উচ্ছেদ অভিযান সংক্রান্ত প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপের আপডেট কি আপনার প্রয়োজন?
এ রহমান
মন্তব্য করুন: