চাঁদের আলোয় মিলনের ডাক: আনন্দে ভরে উঠুক ঈদ
একটু পরেই আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এক অদ্ভুত প্রতীক্ষা। অগণিত চোখ খুঁজবে সেই কাঙ্ক্ষিত বাঁকা চাঁদ। দেখা মিলতেও পারে, নাও মিলতে পারে—কিন্তু আশার আলো ঠিকই জ্বলে থাকবে সবার মনে। আজ চাঁদ দেখা গেলে কালই ঈদ, নচেৎ অপেক্ষা আরেকটি দিনের।
চাঁদের দেখা মিললেই আনন্দে ভেসে উঠবে পুরো দেশ। সরকারি ঘোষণা আসার আগেই যেন হৃদয়ে বাজতে শুরু করবে উৎসবের সুর। টেলিভিশন ও বেতারে ভেসে উঠবে কাজী নজরুল ইসলাম–এর সেই অমর গান—‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ…’। আর পাড়া-মহল্লার মসজিদ থেকে প্রতিধ্বনিত হবে ‘ঈদ মোবারক’ ধ্বনি।
ঈদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য এখানেই—এদিন ধনী-গরিব, বড়-ছোট, উচ্চ-নীচ সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই দাঁড়ায় একই কাতারে। এই এক দিনের মধ্যেই ফুটে ওঠে ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব আর ভালোবাসার অনন্য রূপ।
চাঁদ দেখার পর থেকেই ঘরে ঘরে শুরু হবে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। রান্নাঘরে জমবে উৎসবের আয়োজন—ফিরনি, পিঠা, পায়েস, পোলাও, কোরমা—কত কী! এই আনন্দ শুধু পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ছড়িয়ে পড়বে প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, এমনকি সমাজের অবহেলিত মানুষদের মাঝেও। রোগী, বন্দী কিংবা কর্মব্যস্ত মানুষ—কেউই থাকবে না এই আনন্দের বাইরে।
ঈদের সকাল শুরু হয় পবিত্রতায়—মসজিদ কিংবা খোলা ময়দানে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে। এরপর আলিঙ্গন, শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা—সব মিলিয়ে পূর্ণতা পায় ঈদের আনন্দ।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে এই আনন্দের বার্তা। তাই ঈদ শুধু উৎসব নয়, এটি আত্মশুদ্ধির পর এক নির্মল প্রশান্তির অনুভূতি। দেশের মানুষ এবার নতুন এক প্রত্যাশা ও স্বস্তির আবহে ঈদ উদযাপন করবে—যা আনন্দকে আরও গভীর করে তুলেছে।
এদিকে, ঈদকে ঘিরে প্রস্তুতি প্রায় শেষ। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত নগর-বাজার। রঙিন সাজে সেজে উঠেছে দোকানপাট, অফিস-আদালত। টানা ছুটির আমেজে অনেকেই পরিকল্পনা করছেন ভ্রমণের। পর্যটন কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত আনন্দমুখর দিনগুলোর জন্য।
ঈদের অন্যতম শিক্ষা হলো ভাগাভাগি করে নেওয়া। তাই বিত্তবানরা আদায় করবেন ফিতরা, পাশে দাঁড়াবেন অসহায়দের। এই ভাগাভাগির মধ্য দিয়েই আরও দৃঢ় হবে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন।
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই মিলন। এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে সমানভাবে। দেশ ভরে উঠুক শান্তি, সহমর্মিতা আর ভালোবাসায়।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: