রাতভর উত্তেজনা, সমন্বয়ক অবরুদ্ধ
জকিগঞ্জে চেয়ারম্যানকে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে আটক : মব জাস্টিসের অভিযোগ
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে মব জাস্টিসের অভিযোগ উঠেছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষ হওয়ার পর সমন্বয়ক পরিচয়ধারী জাফর আহমদসহ কয়েকজন তরুণ-যুবক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে আওয়ামী লীগের নেতা ও ‘ডেভিল’ হিসেবে আখ্যা দেন। একপর্যায়ে তাঁকে হেনস্তা করে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর মানিকপুর ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা উপজেলা পরিষদ এলাকায় জড়ো হন। তারা অভিযুক্ত সমন্বয়ক জাফর আহমদ ও তাঁর সহযোগীদের ধাওয়া দেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও প্রশাসন দফায় দফায় বৈঠক করে।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতিতে ইউএনও একাধিক বৈঠক করেন। বৈঠক চলাকালে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সামনেই আবদুস শহীদকে ‘ডেভিল’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেন সমন্বয়ক জাফর আহমদ। তবে এ সময় উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান এর বিরোধিতা করে বলেন, “আবদুস শহীদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে দলীয় ট্যাগ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া ন্যক্কারজনক।”
পুলিশ সূত্র জানায়, আবদুস শহীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ না পাওয়ায় তাঁকে ১৫১ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, “তদন্তে আবদুস শহীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা রাজনৈতিক পদ-পদবীর তথ্য পাওয়া যায়নি। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার ঘটনাটিকে ‘মব-সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে সমন্বয়ক জাফর আহমদ দাবি করেন, আবদুস শহীদ তাঁর দায়ের করা মামলার আসামি এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘ডেভিল’। তিনি বলেন, “আমি নিজেই হামলার শিকার হয়েছি এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছি।”
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: