আহত ১
জাদুকাটায় টাস্কফোর্সের অভিযানকালে ম্যাজিস্ট্রেট টিমের ওপর গ্রামবাসীর হামলা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বিরোধী টাস্কফোর্স অভিযানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকশ গ্রামবাসীর অতর্কিত পাথর নিক্ষেপে স্পিডবোট চালক আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পিছু হটতে হয়েছে মোবাইল কোর্ট টিমকে। তবে পরবর্তী দফায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে অভিযান চালিয়ে তিনটি নৌযান জব্দ ও একজনকে আটক করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জাদুকাটা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রবিউর রায়হানের নেতৃত্বে ৯ মে (শনিবার) রাত ১২টা থেকে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান শুরু হয়। অভিযানে পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বিত দল অংশ নেয়।
রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে বিশ্বম্ভরপুরের সত্রিশ গ্রাম এলাকায় অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনরত ২টি স্টিলবডি নৌকা ও ৩টি ড্রেজারবাহী কাঠের নৌকা শনাক্ত করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখা মাত্রই বালু খেকো চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে জব্দকৃত নৌকাগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য নৌ পুলিশের মাধ্যমে চালক সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলাকালে স্থানীয় কয়েকশ মানুষ নদীর পাড়ে জড়ো হয়ে মোবাইল কোর্ট টিমকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। এতে স্পিডবোটের চালক আহত হন। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তখন টিমসহ পিছু হটতে বাধ্য হন।
হামলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশ ও বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির অতিরিক্ত সদস্য পাঠানো হয়। অতিরিক্ত শক্তির সহযোগিতায় পুনরায় অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ২টি বাল্কহেড ও ১টি ড্রেজারবাহী নৌকা জব্দ করা হয়।
অভিযান চলাকালে একটি বাল্কহেডের মালিককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রশাসনের কাজে বাধা প্রদান কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটককৃত ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি নিমিত্ত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রবিউর রায়হান জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারি কাজে যারা বাধা দিয়েছে এবং হামলা চালিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।
এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং জাদুকাটা নদী সংলগ্ন পয়েন্টগুলোতে পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রীতম দাস/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: