আল্লামা ফুলতলী ছাহেব (র.)–এর স্মরণে লাখো মানুষের আবেগঘন মিলন
Led Bottom Ad

ফুলতলীতে ঈসালে সাওয়াব মাহফিল

আল্লামা ফুলতলী ছাহেব (র.)–এর স্মরণে লাখো মানুষের আবেগঘন মিলন

নিজস্ব প্রতিনিধি, জকিগঞ্জ

১৫/০১/২০২৬ ২০:১১:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আধ্যাত্মিক আবেগ, অশ্রুসজল দোয়া আর হৃদয়ছোঁয়া নসিহতে মুখর ছিল সিলেটের ফুলতলী। আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)–এর ১৮তম ইন্তেকালবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে লাখো মানুষের ঢলে পরিণত হয় ফুলতলী ছাহেব বাড়ি–সংলগ্ন বালাই হাওর। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুরিদ-মুহিব্বিনে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।


ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে প্রধান তা’লিম ও তরবিয়ত পেশ করেন আল্লামা ফুলতলী ছাহেব (র.)–এর সুযোগ্য উত্তরসূরি উস্তাযুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, মুরশিদে বরহক হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব ফুলতলী।


আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ইতিহাসে যুলুমের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত রয়েছে। ক্ষমতার লোভ মানুষকে অমানবিক করে তোলে। যারা মানুষের ওপর যুলুম করেছে, তারা কেউই আল্লাহর বিচার থেকে রেহাই পায়নি। তিনি বলেন, “হে আল্লাহ! আমরা যেন যুলুমকারী না হই, আবার যেন যুলুমের শিকারও না হই। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে হানাহানি ও বিভেদের আগুন থেকে রক্ষা করুন।”


তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর প্রতি আল্লাহ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত হলো পবিত্র কুরআন। আল্লামা ফুলতলী ছাহেব (র.)–এর মাধ্যমে বিশুদ্ধ কুরআনের তিলাওয়াত ও শিক্ষা নির্ভরযোগ্য সনদের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছেছে। কুরআনের খিদমতে নিয়োজিতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই খিদমতই কিয়ামতের ময়দানে আমাদের মুক্তির অসিলা হবে।”


হিযবুল বাহারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি একটি পরীক্ষিত ও মকবুল ওযীফা, যা দুনিয়া ও আখিরাতের বিপদ থেকে রক্ষা করে। তবে দ্বীনের পথে নতুনত্ব আনতে গিয়ে মূল সিলসিলা থেকে বিচ্যুত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


সকাল সাড়ে ১০টায় হাজারো এতিম ও মুরিদ-মুহিব্বিনের অংশগ্রহণে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব (র.)–এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর খতমে কুরআন, খতমে বুখারি, খতমে খাজেগান, দালাইলুল খাইরাত পাঠ এবং স্মৃতিচারণমূলক আলোচনায় দিনব্যাপী মাহফিল পরিণত হয় এক গভীর আধ্যাত্মিক মিলনমেলায়।


মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর ৩৯তম বংশধর মদিনা শরিফের প্রখ্যাত বুযুর্গ সায়্যিদ আল হাবীব আসিম আদী ইয়াহইয়া ও জেদ্দার বিশিষ্ট আলেম সায়্যিদ আল হাবীব ওমর আহমদ আল হাবাশী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো–ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মো. নূরুল হকসহ দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান আলেম, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবীরা।


মাহফিলে অংশ নিতে আসা হাজারো মানুষের চোখেমুখে ছিল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আত্মশুদ্ধির আকুতি। ফুলতলী যেন এদিন পরিণত হয় ঈমান, ঐক্য ও ভালোবাসার এক অনন্য ঠিকানায়।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad