দক্ষিণ সুরমায় খাল খননে ফিরছে সেচ সুবিধা, আশাবাদী কৃষকেরা
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কৃষিনির্ভর জনপদে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচসংকট কাটাতে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অর্থায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। গবেষণায় এ এলাকার মাটি উর্বর হিসেবে চিহ্নিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচের অভাব ও জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েন কৃষকেরা। এতে অনেক জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছিল।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিএডিসির অর্থায়নে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেটের ব্যবস্থাপনায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নে আটটি খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের আজমতপুর এলাকায় খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের মধ্যেই লালাবাজার, দাউদপুরসহ অন্যান্য এলাকার খাল খননের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। খননের ফলে দীর্ঘদিন নাব্যতা হারানো খালগুলোতে আবারও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরেছে। এতে খালের দুই পাড়ের কয়েক শ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে এবং জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমেছে।
এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খালে পানি প্রবাহ বাড়ায় কৃষকসহ স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে খালের পাশের বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে সন্তুষ্টি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। কৃষিকাজের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজে সহজেই পানির সুবিধা পাওয়ায় উপকারভোগীরা আনন্দ প্রকাশ করছেন।
জালালপুর এলাকার কৃষক রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘আগে পানির অভাবে বছরে একবার ফসল ফলাতাম। দূর থেকে সেচ পাম্পে পানি আনতে হতো, খরচও বেশি ছিল। এখন খাল খননের পর পানির সমস্যা নেই। রবি শস্যসহ ইরি-বোরো চাষের আশা করছি।’
একই এলাকার কৃষক নজব আলী জানান, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন সেচের সমস্যা ছিল, অন্যদিকে বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি বেড়েছিল। খাল খননের ফলে এখন কৃষিকাজে স্বস্তি ফিরেছে।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌতম পাল বলেন, জালালপুর এলাকায় ভবখালী–১ ও ভবখালী–২ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮ দশমিক ১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সপ্তাহে দাউদপুর ইউনিয়নে নতুন করে খননকাজ শুরু হবে। এতে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণেও সহায়ক হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, খাল খননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূ–উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে ফসল উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। দক্ষিণ সুরমায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালু থাকবে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: