সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে ২২ জন প্রার্থী কোটিপতি
সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব প্রার্থীর মধ্যে ২২ জনই কোটিপতি। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক সিলেট-৬ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমান। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৫ টাকা। এছাড়া অন্তত পাঁচজন প্রার্থীর স্ত্রীও কোটিপতির তালিকায় রয়েছেন।
সিলেট-১ আসন:
এই আসনে সম্পদের দিক দিয়ে এগিয়ে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩০ টাকা। তার স্ত্রীর সম্পদ ১৪ কোটি ৫২ লাখ ৩০ হাজার ৯০৩ টাকা।
এরপরেই রয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন। তার সম্পদ ৩ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ২৫ টাকা এবং স্ত্রীর ২ কোটি ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৭ টাকা।
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়ার সম্পদ ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৭০ টাকা এবং জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমানের সম্পদ ১ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৩০৩ টাকা।
কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে বাসদ (মার্কসবাদী) সঞ্জয় কান্ত দাস, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম হাসান ও বাসদের প্রণব জ্যোতি পালের।
সিলেট-২ আসন:
৭ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন কোটিপতি। বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদী (ইলিয়াসপত্নী) সর্বোচ্চ সম্পদের মালিক—২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৯ টাকা।
এছাড়া খেলাফত মজলিসের মো. মুনতাসির আলী (২ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৪ টাকা), জামায়াতের আব্দুল হান্নান (১ কোটি ৬০ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৭ টাকা) এবং জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (১ কোটি ৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা)।
কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে গণফোরামের মুজিবুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মো. আমির উদ্দিন ও গণঅধিকার পরিষদের জামান আহমদ সিদ্দিকীর।
সিলেট-৩ আসন:
৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই কোটিপতি। সর্বাধিক সম্পদের মালিক খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজু—৫ কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার ৫৩৩ টাকা।
জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমানের ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকা এবং তার স্ত্রীর ১ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৫২৫ টাকার সম্পদ রয়েছে।
বিএনপির মো. আবদুল মালিকের সম্পদ ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা হলেও তার যুক্তরাজ্যপ্রবাসী স্ত্রীর সম্পদ প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইনের ৩ কোটি ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯২ টাকা এবং স্ত্রীর দেড় কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। জামায়াতের লোকমান আহমদের সম্পদ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ১৯২ টাকা।
কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে এনসিপির নুরুল হুদা জুনেদ ও ইসলামী আন্দোলনের রেদওয়ানুল হক চৌধুরীর।
সিলেট-৪ আসন:
৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন কোটিপতি। বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর সম্পদ ১৯ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৬৬ টাকা এবং তার স্ত্রীর ৮ কোটি ৪২ লাখ ৭১ হাজার ৯৯১ টাকা।
এনসিপির মো. রাশেদ উল আলমের ২ কোটি ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৫ টাকা এবং জামায়াতের জয়নাল আবেদীনের ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৬ টাকা সম্পদ রয়েছে।
খেলাফত মজলিসের মুফতি আলী হাসান উসামার সম্পদ কোটি টাকার নিচে। জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলামের সম্পদের তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি।
সিলেট-৫ আসন:
৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন কোটিপতি। স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) মামুনুর রশিদের সম্পদ ১ কোটি ২২ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৪ টাকা। জমিয়তের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সম্পদ ১ কোটি ২২ হাজার টাকা।
কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে জামায়াতের হাফেজ মাওলানা আনওয়ার হোসেন খান, খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান ও মুসলিম লীগ의 মো. বিল্লাল উদ্দিনের।
সিলেট-৬ আসন:
৫ জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র জাতীয় পার্টির মো. আব্দুন নূরের সম্পদ কোটি টাকার নিচে।
গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমানের সম্পদ ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৫ টাকা, বিএনপির ফয়সল আহমদ চৌধুরীর ১১ কোটি ১৬ লাখ ২১ হাজার ৯০২ টাকা, বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরীর ১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ৮১০ টাকা এবং জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিনের ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ১২৪ টাকা সম্পদ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিলেটের ছয় আসনেই প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধনাঢ্য ব্যক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: