সিলেটে সাবেক ইউপি সদস্য আতিক হত্যা মামলায় দুই সহোদর গ্রেফতার
সিলেটের ওসমানীনগর থানাধীন ৪নং বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়া হত্যা মামলায় দুই সহোদরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানাধীন সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের খোয়াজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ওসমানীনগর উপজেলার পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের আতর মিয়ার ছেলে মিজান মিয়া (২৮) ও মঞ্জু মিয়া (৩৩)।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে গ্রেফতারকৃতদের ওসমানীনগর থানা পুলিশ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর থেকে গ্রেফতারকৃত দুই ভাইসহ মামলার অন্যান্য আসামিরা পলাতক ছিলেন। মঞ্জু ও মিজান হত্যা মামলার ৬ ও ৭ নম্বর আসামি।
নিহত আতিক মিয়া এলাকায় একজন পরিচিত সালিশ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ওসমানীনগরের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাবের সঙ্গে তার আপন ভাই সৈয়দ আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়ার বসতভিটার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ সংক্রান্ত একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।
র্যাব জানায়, ওই বিরোধের জেরে গত ৩১ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সৈয়দ আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়ার বসতঘরে হামলা চালানো হয়। এ সময় ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করা হয়।
ঘটনার পর সৈয়দ আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়া বিষয়টি সালিশ বিচারের জন্য সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়ার কাছে গেলে তিনি আতর মিয়ার বাড়ির উঠানে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে আতিক মিয়া বিবাদীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং অন্যথায় পুলিশে সোপর্দ করার হুঁশিয়ারি দেন।
সালিশ শেষে ওই দিন বিকেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে আতর মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে রাস্তার ওপর পৌঁছামাত্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে আতিক মিয়াকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে
এ রহমান
মন্তব্য করুন: