ফুুরফুরে জামায়াত
সিলেট-৬ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলে বিভ্রান্তি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার–গোলাপগঞ্জ) আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীকে ঘিরে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সোমবার এমরান আহমদ চৌধুরী ও ফয়ছল আহমদ চৌধুরী—উভয়েই নিজেদের চূড়ান্ত প্রার্থী দাবি করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিরসনে হাইকমান্ডের স্পষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন তারা। বিএনপির এই অস্থিরতার বিপরীতে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী বেশ নির্ভার অবস্থানে রয়েছে। দলটির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ইতোমধ্যে সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে পরিকল্পিত প্রচারণা শুরু করেছেন।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুকন উদ্দিন জানান, প্রতীক পাওয়ার পর ইউনিয়নভিত্তিক সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের স্থান ও সময় চূড়ান্ত করা হবে।
বিএনপির স্থানীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ২৮ ডিসেম্বর রাতে দলীয় চিঠি হাতে পেয়ে ফয়ছল আহমদ চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। চিঠির ওপর ‘সংযুক্তি-২’ উল্লেখ থাকায় তাঁর অনুসারীরা তাঁকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে প্রচার শুরু করেন। অন্যদিকে আগে থেকেই মনোনয়ন পাওয়া সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীর সমর্থকেরা ফয়ছলকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপি নেতারা জানান, ৩ নভেম্বর থেকে এমরান আহমদ চৌধুরীই মাঠে প্রচার চালিয়ে আসছেন। শেষ মুহূর্তে ফয়ছল আহমদ চৌধুরীর চূড়ান্ত প্রার্থিতার দাবি দলীয় কৌশল হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দৌলা হোসেন সুভাষ বলেন, “দলের চূড়ান্ত প্রার্থী একজনই। তবে কোনো কারণে মূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থী রাখতেই সংযুক্তি-২ দেওয়া হয়েছে।”
৫ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়ার পর ফয়ছল আহমদ চৌধুরী নিজেকে চূড়ান্ত প্রার্থী দাবি করে বলেন, সংযুক্তি-২ অনুযায়ী তিনিই দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন।
এদিকে সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সারাদেশের কয়েকটি আসনে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। একই সভায় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট-৬ আসনে এমরান আহমদ চৌধুরীকেই দলের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
এ বিষয়ে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, “দলের মহাসচিব পরিষ্কারভাবে বলেছেন, বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে সম্ভাব্য জটিলতা বিবেচনায়। মনোনয়ন বহাল থাকলে আমিই দলের প্রার্থী থাকব।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: