৩ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠবে শহর
প্রবাসীদের জন্য সিলেট শহরের পাশে ‘নতুন শহর’ গড়ার উদ্যোগ
প্রবাসীবহুল সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীরা দেশে এলে নিরাপত্তাহীনতা ও পর্যাপ্ত সুযোগ–সুবিধার অভাবে নানা ভোগান্তিতে পড়েন। এসব কারণে প্রবাসীদের নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ দেশে আসতে অনাগ্রহী হয়ে উঠছে। এই সংকট কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক আবাসন নিশ্চিত করতে সিলেট শহরের পাশেই একটি নতুন শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে কেবল প্রবাসীরাই বসবাস করতে পারবেন।
শনিবার নগরের কবি নজরুল অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘প্রবাসী সম্মাননা–২০২৫’ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে সিলেট শহরের সন্নিকটে প্রায় তিন হাজার একর জায়গা নিয়ে শুধুমাত্র প্রবাসীদের জন্য একটি নতুন শহর গড়ার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই এই নতুন শহরের যাত্রা শুরু হবে। এখানে ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো সুযোগ–সুবিধা থাকবে, যাতে প্রবাসীরা দেশে এসে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন।”
তিনি আরও জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং জরিপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সিলেটের ১০৩ জন প্রবাসীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. আব্দুন নাসের খান বলেন, “প্রবাসীরা বাংলাদেশের গর্ব ও হৃৎস্পন্দন। তারা দূর প্রবাসে থেকেও লাল–সবুজের পতাকাকে হৃদয়ে ধারণ করেন এবং নিজেদের শ্রম ও মেধা দিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেন।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, “সিলেটকে লন্ডনের মতো উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে। এজন্য প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।”
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম, প্রবাসী ব্যক্তিত্ব ড. ওয়ালি তশর উদ্দিন ও ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে সার্কিট হাউজ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কবি নজরুল অডিটরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ বছর নির্ধারিত সময়ে বিশ্বের ১১টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের কাছ থেকে সম্মাননার জন্য ৫৮২টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই–বাছাই শেষে ছয়টি ক্যাটাগরিতে ড. ওয়ালি তশর উদ্দিন, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, স্পিকার আয়াজ মিয়া, ব্যারিস্টার কুতুবউদ্দিন সিকদার, ইকবাল আহমেদসহ মোট ১০৩ জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
ক্যাটাগরিগুলো হলো—সফল পেশাজীবী, সফল ব্যবসায়ী, সফল কমিউনিটি নেতা, সফল নারী উদ্যোক্তা, খেলাধুলায় সাফল্য অর্জনকারী এবং বাংলাদেশি পণ্য সংশ্লিষ্ট দেশে আমদানিকারক।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: