রাজনগর উপজেলা পরিষদে ‘কোটিপতি’ সিএ–এর ঝড়!
মৌলভীবাজারের রাজনগরে সরকারি অফিসের এক সাধারণ কর্মচারী—অনুপ দাস। পদমাত্র সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর। মাসের শেষে যাঁর বেতন তেমন বড় অঙ্ক নয়। অথচ এই অনুপই মাত্র তিন–চার মাসে বনে গেলেন ‘কোটিপতি অনুপ’। যেন জাদুর মতো কোটি টাকার আবির্ভাব, আর সরকারের টাকাই উধাও! রাজনগর উপজেলা পরিষদজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—এক সিএ-ই যদি কোটি টাকা গায়েব করতে পারে, তাহলে বাকিরা কী করছে?
তদন্তে দেখা গেছে, যেন অদৃশ্য এক জালের ভেতর দিয়ে টাকা টেনে নিয়েছেন অনুপ। সরকারি তিনটি তহবিল—হাট–বাজার, রাজস্ব ও উন্নয়ন—সব খাত থেকেই অঙ্কের পর অঙ্ক কেটে নিয়েছেন তিনি। পরিমাণ শুনলে চোখ কপালে উঠবে—৮০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা — হাট–বাজার তহবিল থেকে,৪০ লাখ টাকা — রাজস্ব তহবিল থেকে,৩১ লাখ টাকা — উন্নয়ন তহবিল থেকে। সব মিলিয়ে মোট: ১ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা! এ যেন সরকারি টাকার নদী, আর তার মাঝখানেই দাঁড়িয়ে অনুপ—খালি বালতিতে বালতি ভরছেন!
উপজেলা পরিষদের ভেতরের একটি সূত্র বলেছে, অনুপ দাসের কৌশল ছিল রীতিমতো সিনেমার মতো। ইউএনও’র সামনে চেক দেখাতেন কম অঙ্কের, কিন্তু ফাঁকা জায়গা রেখে। স্বাক্ষর হয়ে গেলেই ফিরে গিয়ে যোগ করতেন বাড়তি সংখ্যা। কখনো এক ডিজিট, কখনো দুই—তারপর অঙ্ক হয়ে যেত কয়েকগুণ!
মানুষের ভাষায়—“শূন্য যোগ করেই টাকা বাড়িয়ে নিতেন।”চুরির কৌশল এতটাই নিখুঁত ছিল যে মাসের পর মাস কেউ টেরই পায়নি! বড়লেখাতেও একই খেলা—উধাও আরও ২২ লাখ টাকা রাজনগরে ধরা পড়ার পর বড়লেখা উপজেলায় অনুসন্ধান চালানো হলে একইরকম জালিয়াতির খোঁজ মেলে। সেখানেও প্রায় ২২ লাখ টাকা উধাও।
অনেকে বলছেন, “এভাবে দুই উপজেলায় টাকা আত্মসাৎ করতে গেলে একজন একা পারে? এর পেছনে থাকা ‘নীরব প্রহরীদের’ খুঁজে বের করা দরকার।”
অল্প সময়েই এত টাকা লোপাট—তবু কর্তৃপক্ষের টনক না-নড়া, বিষয়টি নিয়েই জনমনে সন্দেহ। মানুষ বলছে,“এত দিনের ঘটনা যদি ধরা না-ই পড়ে, তাহলে সরকারি অফিসে কীভাবে কাজ হয়?”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অনুপ দাসকে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তদন্তের দায়িত্বে থাকা মোসা. শাহিনা আক্তার বলেন,“বিষয়টি অফিস প্রধানের বক্তব্যেরই আওতায় পড়ে।”
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: