নোমান হত্যাকাণ্ড: রিমান্ডে শ্যালক ইবাদতে মগ্ন, সন্দেহভাজনরা আত্মগোপনে
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া শ্যালক হানিফ আহমদ সুমনের রিমান্ড রোববার শেষ হচ্ছে। গত বুধবার আদালত সুমনের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে থাকাকালীন সুমন জিজ্ঞাসাবাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এড়িয়ে চলছেন। অধিকাংশ সময় তিনি কুরআন তেলাওয়াত ও নামাজে ব্যস্ত থাকার অজুহাত দেখাচ্ছেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা নিখুঁতভাবে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, রিমান্ড মঞ্জুরের পর থেকেই মামলার অন্য সন্দেহভাজনরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন — এতিছামনগর পশ্চিম গঙ্গাজল গ্রামের মামই মিয়ার ছেলে ও সুমনের খালাতো ভাই মাজেদ আহমদ, চারখাই এলাকার তাসকিন আহমেদ তাজুল, ঘেছুয়া গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম কুটিলসহ আরও কয়েকজন।
পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিক অভিযান চালানো হলেও কাউকেই পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সুমনের রিমান্ড শুরুর পরপরই মাজেদ পুরো পরিবারসহ গা-ঢাকিয়ে দিয়েছেন। তাসকিন আহমেদ তাজুলও পলাতক রয়েছেন। নোমান নিখোঁজের পর সুমনের সঙ্গে তার চলাচলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ ঘেছুয়া গ্রামের তুতু মিয়ার ছেলে রিয়াজুল ইসলাম কুটিলের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে কুটিল পালিয়ে গেলে, তার বাড়িতে সুমনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, এটি গ্রামের সমন্বয়ক মুনিমের। কিন্তু পুলিশ মুনিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তার কোনো মোটরসাইকেলের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জকিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, “ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে রহস্যজনকভাবে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন আত্মগোপনে চলে গেছেন, যা তদন্ত জটিল করছে। রিমান্ডে সুমন অনেক প্রশ্ন এড়িয়ে চলেছে। তার বোনের বক্তব্যের সঙ্গে সুমনের কথার মিল না থাকা পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: