সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে পাস কার্ড না পেয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ক্ষোভ
Led Bottom Ad

সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে পাস কার্ড না পেয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০২/০৫/২০২৬ ১১:৩০:২৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ সিলেটে আসছেন তারেক রহমান। নির্বাচনের আড়াই মাস পর তাঁর এই ‘শ্বশুরবাড়ি’ সফর ঘিরে নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও, জনসমাবেশে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ কার্ড না পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, কার্ড বিতরণে তাঁদের মূল্যায়ন না করে সুবিধাবাদী ও ‘হাইব্রিড’ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তার কারণে সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য সীমিতসংখ্যক আমন্ত্রণ কার্ড ইস্যু করা হয়। তবে এই কার্ড বণ্টনে চরম অব্যবস্থাপনা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখা অনেক ত্যাগী নেতাকে তালিকায় রাখা হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুঃসময়ে আমরা রাজপথে থাকলেও এখন মূল্যায়নের সময় আমাদের বাদ দিয়ে হাইব্রিডদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে।”

এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি লিখেন, “যুবদলের নেতৃবৃন্দের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি, আমাদের ভুল বুঝবেন না। খুব সীমিত কার্ড দেওয়া হয়েছে। যারা আমাদের নির্দেশে এতদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, তাঁদের মূল্যায়ন করতে পারিনি।”

তাঁর এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে নেতাকর্মীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। ইমাদ আহমদ লস্কর নামে একজন মন্তব্য করেছেন, কার্ড বিতরণে বৈষম্যকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। বিলাল আহমদ নামের এক কর্মী লিখেছেন, “আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।” আবার মাহবুব আহমদ নামে এক কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, নির্যাতিতরা বাদ পড়লেও হাইব্রিডরা ঠিকই কার্ড বাগিয়ে নিয়েছে।

তবে অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করছেন, জায়গার সংকুলান ও নিরাপত্তার খাতিরে কার্ড সংখ্যা সীমিত রাখতে হয়েছে, যা সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে জেলা ও মহানগর নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়েছে। বৃষ্টি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি উপেক্ষা করে সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও সমাবেশকে ঘিরে সামগ্রিকভাবে ব্যাপক জনসমাগম ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad