সুনামগঞ্জে ২০০ কোটি টাকার ধান পানির নিচে
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা এবং জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জে ১৩ হাজার ৭৯ হেক্টর বোরো ফসলের অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এপ্রিলের শুরুতে প্রথম দফা এবং ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার টানা বৃষ্টিতে হাওরজুড়ে এখন কেবলই ফসলহারা কৃষকের হাহাকার।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে এ বছর মোট ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত মাত্র ৫১ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৪৯ শতাংশ ধান এখনও মাঠে থাকলেও তার বড় অংশই পানির নিচে। টানা বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে; গত মাত্র পাঁচ দিনে বজ্রপাতে জেলায় ৮ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারায় খলায় রাখা ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জের মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম তাঁর দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, "সব জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি ঢোকার আগে যা কেটে এনেছিলাম, রোদের অভাবে খলাতেই সেগুলোতে চারা গজিয়ে গেছে। আমাদের আর কিছুই করার নেই।"
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওমর ফারুক জানান, মধ্যনগরের এরন বিল ও জিনারিয়া বাঁধ ভেঙে তিনটি ছোট হাওরে পানি ঢুকে পড়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় এবং বাঁধ ভাঙার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে কাজ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: