মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি: নতুন করে ডুবছে কৃষকের স্বপ্ন
মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের দুশ্চিন্তা আবারও চরমে পৌঁছেছে। কিছুটা বিরতির পর গত শুক্রবার দুপুরের পর থেকে নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় জেলাজুড়ে বোরো চাষিদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাকালুকি ও কাউয়াদিঘি হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার বিশাল বোরো খেত বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে আছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধান পানির নিচে থাকায় তা পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে। অনেকে তড়িঘড়ি করে ধান কাটলেও পর্যাপ্ত রোদের অভাবে সেগুলো অঙ্কুরিত হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত পানির কারণে শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে; শ্রমিকরা মাঠে নামতে রাজি না হওয়ায় এবং জলাবদ্ধতায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালানো সম্ভব না হওয়ায় ফসল ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ জানান, গত ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ২৬৬ মিলিমিটারের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এত কম সময়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে বিদ্যমান পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ৮টি পাম্পের মধ্যে ৬টি সচল থাকলেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় পানি সরানো যাচ্ছে না। তবে বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ৪-৫ দিন সময় লাগতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, জেলায় এ বছর মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে হাওরের বোরো ধানের বড় অংশই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: