ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি
ছাতকে হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মানববন্ধন
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের বাঘাচেরা, বাড়ুকা ও বুরাইগিরি হাওরে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার কৃষকের সোনালী ফসল তলিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় চরবাড়ুকা গ্রামের পশ্চিম বাঘাচেরা হাওর পাড়ে 'হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন' ছাতক উপজেলা কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে নিজেদের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষক জসিম উদ্দিন, আব্দুল মতিন ও ফয়জুর রহমানসহ অনেকেই। তাঁরা অভিযোগ করেন, সঠিক সময়ে বাঁধ সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের সারা বছরের একমাত্র সম্বল বোরো ধান আজ পানির নিচে। এখন পরিবার নিয়ে অনাহারে থাকার উপক্রম হয়েছে বলে তাঁরা জানান।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন ছাতক উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব উজ্জীবক সুজন তালুকদারের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সভাপতি মো. রাজু আহমেদ। তিনি হাওর রক্ষা বাঁধের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের পরও অপরিকল্পিত পিআইসি গঠন ও দুর্নীতির তীব্র সমালোচনা করে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, এই লুটপাটের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সহ-সভাপতি ওবায়দুল মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলন, ছাতক উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, ফয়সল আহমদ মাছুমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দুর্দশার কথা জাতীয় সংসদে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা এবং সহায়তার আশ্বাস দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং আগামী বছর থেকে বাঘাচেরা ও বুরাইগিরি হাওরকে পিআইসির আওতায় আনা হবে।
মানববন্ধন থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নগদ সহায়তা প্রদান ও কৃষি ঋণ মওকুফ, দ্রুত নালা খনন করে জলাবদ্ধতা নিরসন, বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং আগামী মৌসুমে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা। কর্মসূচিতে সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ কয়েক শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: