সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার
৫ কিলোমিটার সড়কে ২৫ গ্রামের দুর্ভোগ
বর্ষা এলেই এই সড়ক যেন পরিণত হয় এক ভয়ংকর কাদার নদীতে। আর শুষ্ক মৌসুমে তা রূপ নেয় ধুলার এক অদৃশ্য ঝড়ে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ও সুরমা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী প্রায় ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি আজ শুধু একটি রাস্তা নয়—এটি হয়ে উঠেছে প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম, কষ্ট আর নীরব অসহায়ত্বের নাম।
স্বাধীনতার এত বছর পরও এই জনপদের মানুষ যখন উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে, তখন এই সড়ক তাদের মনে করিয়ে দেয় অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাসকে।
লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রসরাই মাদ্রাসা থেকে সুরমা ইউনিয়নের নূরপুর বাজার পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে নেই কোনো পাকা সড়কের চিহ্ন। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি হাঁটুসমান কাদায় ডুবে যায়। তখন মানুষ, শিশু, বৃদ্ধ—সবাইকে পেরোতে হয় এক কঠিন বাস্তবতা।
স্থানীয়রা জানান, অনেক সময় অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল চালকেরাও কোদাল হাতে নেমে পড়েন কাদা সরাতে। তবুও গন্তব্যে পৌঁছানো যেন এক অনিশ্চিত যুদ্ধ।
এই ভাঙা রাস্তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। আলীপুর সোনালীনুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন আমাদের শিক্ষার্থীরা এই রাস্তা পেরিয়ে স্কুলে আসে। বর্ষায় অনেকেই ভিজে-সিক্ত কাদায় লুটিয়ে পড়ে। অনেক অভিভাবক ভয়ে সন্তানদের স্কুলেই পাঠাতে চান না।” শিক্ষকদের চোখে এখন এই রাস্তা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং একটি বাধা—যা ধীরে ধীরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
রসরাই হযরত শাহজালাল দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা তাহুরা আক্তার বলেন, “নারীদের জন্য এই পথ আরও কষ্টকর। হাঁটার সময় প্রতিটি পদক্ষেপ যেন পরীক্ষা নেয় ধৈর্যের।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন দাবি, কিন্তু সমাধান নেই। কেউ বলছেন আংশিক কাজ হচ্ছে, কেউ বলছেন মালিকানা পরিষ্কার নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। আর এর মাঝেই থেমে আছে হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবন।
এই এলাকার মানুষ আর নতুন কোনো আশ্বাস চান না। তারা চান একটি পাকা রাস্তা—যেখানে কাদা থাকবে না, ধুলা থাকবে না, থাকবে শুধু স্বস্তির হাঁটা।
রসরাই থেকে নূরপুর পর্যন্ত এই ৫ কিলোমিটার যেন আর অবহেলার প্রতীক না হয়ে, হয়ে ওঠে উন্নয়নের বাস্তব উদাহরণ—এটাই এখন ২৫ গ্রামের মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: