অবৈধভাবে ইতালি যাত্রা
ভূমধ্যসাগরে ১৬ দিন ধরে নিখোঁজ হবিগঞ্জের ৩৫ তরুণ
ইউরোপে ভালো জীবনের আশায় যাত্রা করেছিলেন ৩৫ তরুণ। নৌকাযোগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছানোর স্বপ্ন ছিল তাদের। কিন্তু ১৬ দিন পার হলেও তাদের আর খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজদের সবাই বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা এখন দিন গুনছেন একটাই আশায়—কোনোভাবে প্রিয়জনের খোঁজ মিলবে। নিখোঁজদের মধ্যে শুধু আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমভাগ গ্রাম থেকেই নিখোঁজ হয়েছেন ৬ তরুণ।
পরিবারের ভাষ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর আজমিরীগঞ্জের প্রবাসী হাসান আশরাফ ওরফে সামায়ূন মোল্লার মাধ্যমে ত্রিপলি থেকে নৌকাযোগে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেন ওই ৩৫ তরুণ। প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বানিয়াচং উপজেলার আলফাজ মিয়া রনি, মোজাক্কির আহমেদ, সিয়াম জমাদার, মিজান আহমেদ, সাইফুল ইসলাম বাবু, জুবাইদ মিয়া, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ইমন, পারভেজ, রফিকুল ইসলাম পবলু, হাবিবুর রহমান, সাব্বির, মাহি ওরফে রাহুল, উজ্জ্বল, পিন্টু, মোক্তাকির, রবিউলসহ আরও অনেকে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসান আশরাফ দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। এই সুযোগে তিনি একটি চক্র গড়ে তুলে অবৈধ পথে তরুণদের ইতালি পাঠিয়ে আসছেন। এ জন্য জনপ্রতি ১৭ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নেন তিনি। টাকা কম দিলে তাদেরকে নৌকায় করে ঝুঁকিপূর্ণ পথ ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বুধবার পশ্চিমভাগ গ্রামে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, নিখোঁজ তরুণদের বাড়িতে চলছে আহাজারি। ঋণ করে ছেলেদের ইতালি পাঠিয়েছিলেন বাবা-মায়েরা। এখন সন্তান নেই, আর পাওনাদাররা আসছেন টাকা চাইতে।
নিখোঁজ সাব্বিরের মা ছেলের ছবি বুকে নিয়ে বারবার মাটিতে লুটিয়ে পড়ছিলেন। বাবা আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “ছেলেকে পাঠাতে ১৮ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন শুধু খবরের অপেক্ষা।"
নিখোঁজ মোক্তাকির মিয়ার ভাই মহসিন আহমেদ বলেন, “হাসান মোল্লা বলেছে, ও বেঁচে আছে। কিন্তু এতদিনেও কোনো যোগাযোগ হয়নি। এটা কিভাবে সম্ভব?”
মনির মিয়া, নিখোঁজ রনির বড় ভাই, বলেন, “লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে চারটি নৌকা ছেড়ে যায়। তিনটি ইতালিতে পৌঁছেছে। কিন্তু যে নৌকায় ৩৫ হবিগঞ্জের তরুণ ছিল, সেটি নিখোঁজ।”
হাসান মোল্লা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, দুর্ঘটনায় পড়া নৌকার যাত্রীদের অনেকে উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে বা জেলহাজতে আছেন। তবে কারা কোথায় আছেন—সেটি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে এজেন্ট আব্দুল মুকিত মাস্টার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, “কিছু প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিবিড় রঞ্জন তালুকদার বলেন, “অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ তরুণদের বিষয়ে সংবাদ পেয়েছি। পরিবারগুলো চাইলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: