বড়লেখার এক যুবকের মৃত্যু
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: ভালো নেই সিলেটের প্রবাসীরা
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা ও পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা গভীর সংকটে পড়েছেন। দুবাইয়ে ড্রোন হামলায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিরটেক এলাকার সালেহ আহমদ নামে এক প্রবাসী শ্রমিক নিহত হওয়ার সংবাদে পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে; পেশায় পানির ট্যাংকি ট্রাকের চালক সালেহকে হারিয়ে তাঁর পরিবার এখন দিশেহারা। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে; বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং কাতার প্রবাসী হুমায়ুন কবীরের মতো অনেকেই প্রতিনিয়ত বোমার শব্দের মধ্যে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছেন।
৩০ বছর ধরে বাহরাইনে থাকা সিলেটের গোয়ালাবাজারের আতিকুর রব জানান, যুদ্ধের প্রভাবে সেখানকার অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশে টাকা পাঠানোও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে আসন্ন ঈদ নিয়ে আনন্দের বদলে এখন জীবন বাঁচানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ। ইরানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় সেখানকার প্রবাসীদের স্বজনরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন এবং ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ঈদে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া শত শত সিলেটি আটকা পড়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের সহায়তায় সরকার বিশেষ ‘সেল’ চালু করেছে এবং ভিসার মেয়াদ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে একদিকে স্বজন হারানোর ভয়, অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধসের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে সিলেটসহ পুরো দেশ এখন প্রবাসীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: