জৈন্তাপুরে অবৈধ সেই পশুর হাট ভেঙ্গে দিল উপজেলা প্রশাসন

জৈন্তাপুরে অবৈধ সেই পশুর হাট ভেঙ্গে দিল উপজেলা প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি, জৈন্তাপুর

১৬/০৭/২০২৬ ২০:৪০:৫১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল বাজারে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাঁচ দিনের জন্য ইজারা দেওয়া অস্থায়ী পশুর হাটের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পরও কার্যক্রম চলতে থাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। 

অবৈধভাবে পরিচালিত এ হাটের কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং উপজেলার অন্যান্য বৈধ পশুর হাটের ইজারাদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সুনন্দা রায়ের নির্দেশনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে চিকনাগুল বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে বাজারের মহাসড়কের পশ্চিম পাশে বাংলাদেশ চা বোর্ডের জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত গরু রাখার শেড অপসারণ করা হয়।একই সঙ্গে বাজার-সংশ্লিষ্টদের তিন দিনের মধ্যে সব অবৈধ স্থাপনা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া বাজারের মালিকানা ও বৈধতা-সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

জানা গেছে, গত ২১ মে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চিকনাগুল বাজারে পাঁচ দিনের জন্য অস্থায়ী পশুর হাট ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।শর্ত অনুযায়ী ২৪ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত পশু কেনাবেচার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।সরকারি ইজারায় চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মছদ্দর আলীর ছেলে ইকবাল হোসেনের নামে হাটটির ইজারা নেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে,নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হাটটি চালু রাখা হয় এবং সেখানে নিয়মিত পশু কেনাবেচা, হাসিল আদায় ও রসিদ প্রদান করা হচ্ছিল।স্থানীয়দের অভিযোগ,ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরীর প্রত্যক্ষ মদদে কামাল আহমদসহ কয়েকজন নিয়মিত হাসিল আদায় করতেন এবং ব্যবসায়ীদের রসিদও দেওয়া হতো।

ঈদের সময়ের হাটের ইজারাদার ইকবাল হোসেন বর্তমানে প্রবাসে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ ঘটনায় উপজেলার স্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি,অবৈধভাবে পরিচালিত এ হাটের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং উপজেলার বৈধ পশুর হাটগুলোর ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অভিযান শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, অস্থায়ী পশুর হাটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাজার পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সব স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে এবং বাজারের মালিকানা ও বৈধতা-সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাইফুল ইসলাম বাবু/ ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad