দলীয় প্রতীক ছাড়া ইউপি নির্বাচন
ছাতকের সিংচাপইড়ে নবীন-প্রবীণের জমজমাট লড়াইয়ের প্রস্তুতি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক ঘোষণা তৃণমূলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনার খবরে ভোটার ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তির পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রতীকহীন নির্বাচন হলে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্য, সৎ ও জনপ্রিয় ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ইসির এই সাম্প্রতিক বার্তার পরপরই ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নে পুরোদমে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার, গ্রামগঞ্জের অলিগলি—সবখানেই এখন নির্বাচনী আলাপই প্রধান বিষয়। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে সর্বত্র চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে প্রতিনিয়ত জমে উঠছে এই ইউনিয়নের নির্বাচনী সমীকরণ।
ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার তারা পরিবর্তনের প্রত্যাশায় নতুন মুখ দেখতে আগ্রহী। তবে শুধুমাত্র নতুন মুখ নয়, প্রার্থীর সততা, মেধা, জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনাকেই তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, অতীতে একাধিক ব্যক্তি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও ইউনিয়নের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কাজ এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে। বহু সড়ক এখনো কাঁচা, বিভিন্ন স্থানে সেতুর অভাবে মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাই এবার তারা এমন একজন চেয়ারম্যানকে নির্বাচিত করতে চান, যিনি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন তারা।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্থানীয় ভোটারদের আলোচনা, গণসংযোগ এবং মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে যাদের নাম সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সৈয়দ মনসুর আলী, সারওয়ার হোসেইন সুজন, মো. সায়েম আহমদ, অলিউর রহমান আলেক,আব্দুল রউফ মিয়া,মোজাহিদ আলী, সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেল ও মুর্শেদ চৌধুরী।
সৈয়দ মনসুর আলী (সৈদেরগাঁও):
সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-অর্থ সম্পাদক ও ছাতক উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এ ছাড়া তিনি সিলেটস্থ ছাতক সমিতির সহ-সংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট তপোবন হাউজিং কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত এই তরুণ প্রার্থীকে নিয়ে তরুণ ভোটারদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
সারওয়ার হোসেইন সুজন (সিংচাপইড়):
বিশিষ্ট সালিশ ব্যক্তিত্ব আলহাজ আরজক আলীর পুত্র ও প্রবাসী। তিনি একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক, সিংচাপইড় ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (ইউকে)-এর প্রেসিডেন্ট, এনটিভি ইউরোপের সাংবাদিক এবং মুক্তবাংলা চ্যানেল ইউকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তাঁর সমর্থকরাও মাঠে জোর প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মো. সায়েম আহমদ (জিয়াপুর):
সাবেক উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সিংচাপইড় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত।
অলিউর রহমান আলেক (জিয়াপুর):
মরহুম হাজী বশির উদ্দিনের পুত্র ও ছাতক উপজেলা যুবদলের সদস্য। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই তরুণ প্রার্থীর নামও ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে।
আব্দুল রউফ মিয়া (খাসগাঁও):
মরহুম ইরশাদ আলীর পুত্র। তিনি বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর অতীত অবদান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
মোজাহিদ আলী (জিয়াপুর):
সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা। আইনি কোনো বাধা না থাকলে তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। অতীতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ইউনিয়নে তাঁর একটি নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে।
সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেল (গহরপুর):
সাবেক চেয়ারম্যান সামছুদ্দিনের পুত্র ও উপজেলা যুবলীগ নেতা। তিনি সিংচাপইড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রার্থিতার দাবি তুললেও, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
মুর্শেদ চৌধুরী (সিংচাপইড়):
সাবেক এই চেয়ারম্যানের নামও সাধারণ ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে। তবে তিনি এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
এছাড়াও, ইউনিয়নের আরও কয়েকজন ব্যক্তি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে বিভিন্নভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের ধারণা, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে এবং ইসির তফসিল ঘোষণা হবে, নির্বাচনী মাঠের চিত্র ততই স্পষ্ট হবে এবং নতুন নতুন মুখ আলোচনায় আসতে পারে।
ডিডি/ অথৈ
মন্তব্য করুন: