সিলেটে প্রবাসীর বাসা দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রসিকিউশন রিপোর্ট

সিলেটে প্রবাসীর বাসা দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

প্রথম ডেস্ক

১৪/০৭/২০২৬ ২২:৫৮:১৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন বড়শলা এলাকায় এক ইংল্যান্ড প্রবাসীর বাসা দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা গৃহবধূ ও তার পরিবারকে ময়লা-আবর্জনা ফেলে হয়রানি, উচ্ছেদচেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সত্যতা পেয়ে তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে নন-এফআইআর প্রসিকিউশন রিপোর্ট দাখিল করেছে পুলিশ।


আসামিরা হলেন—সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার বসন্তপুর গ্রামের (বর্তমানে এয়ারপোর্ট থানার ফরিদাবাদ আহমদ হাউজিংয়ের বাসিন্দা) মৃত নিমার আলীর ছেলে আজিজুল ইসলাম (৪৯) ও আতিকুল ইসলাম (৪০) এবং একই এলাকার মৃত ইসরাব আলীর ছেলে জানু মিয়া (৫৮)। তবে ঘটনার সাথে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় মামলার অপর আসামি সিলেটের বহুল সমালোচিত ও মামলা ভয়ে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী প্রবাসী মিসবাউল ইসলাম কয়েছকে (৪৭) অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।


পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, এয়ারপোর্ট থানার বড়শলা এলাকার বাসিন্দা ও ইংল্যান্ড প্রবাসী শামীম চৌধুরীর বাসা দেখাশোনার দায়িত্ব পালনসহ সপরিবারে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন আতরজান বেগম (৬২) নামের এক গৃহিণী। ওই বাসার মালিক শামীম চৌধুরীর সাথে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।


এই বিরোধের জেরে আসামিরা নিয়মিত ওই প্রবাসীর বাসার আঙিনায় এবং মাদ্রাসার সমস্ত ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছিলেন। গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টার দিকে আতরজান বেগম ময়লা ফেলতে নিষেধ করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তার পরিবারকে চরম অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তারা ওই গৃহবধূকে যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় খুন করার হুমকি দেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে প্রবাসীর বাসা থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান।


এই ঘটনার পর প্রবাসীর অনুমতি নিয়ে আতরজান বেগম গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২৪৯) করেন। পরে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ঘটনার সরজমিন তদন্ত শেষে পেনাল কোডের ৫০৬ (২) ধারায় (প্রাণনাশের হুমকি) অপরাধের সত্যতা পাওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন (নন-এফআইআর নং-২৩২, তারিখ: ১৫/০৫/২০২৬) দাখিল করা হয়েছে।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ঘটনার সাক্ষী আব্দুল জব্বার (৩৫), মোঃ সুলতান (২৭) ও মোঃ সাদ মিয়ার (৩০) জবানবন্দি গ্রহণ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত আজিজুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম ও জানু মিয়া এলাকায় উশৃঙ্খল প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত এই তিন আসামির বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করার জন্য বিজ্ঞ আদালতের প্রতি মর্জি প্রকাশ করা হয়েছে।


মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad