হাসনাত আবদুল্লাহ
এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজ আপনি শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই আপনি আজ মন্ত্রী হয়েছেন। শিলং থেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ আসতে পেরেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভের সঙ্গে বললেন, সংবিধান সংস্কার কমিটি— এটা নাকি কোনো সংবিধানে নেই। এটা যদি সংবিধানে না থেকে থাকে, ২০২৬ সালের নির্বাচনও কোনো সংবিধানে ছিল না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার থাকার কথা ছিল শিলংয়ে। সংবিধান অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর থাকার কথা ছিল লন্ডনে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার নেতাকর্মীদের থাকার কথা ছিল ধানক্ষেতে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার নেতাকর্মীদের চালানোর কথা ছিল ঢাকা শহরে রিকশা। এই সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে এসেছে, এই সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন বাংলাদেশের অভিমুখ তারা সেট করেছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আপনারা ছাত্র-জনতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী— এই সমগ্র অঞ্চলের আমার ভাইয়েরা বন্যার মধ্যে কষ্ট পাচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়- দীর্ঘ সাত দিনের বেশি বন্যা আক্রান্ত হলেও এখনো পর্যন্ত সব এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছায়নি।
সোনারগাঁয়ে এমপির ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই সোনারগাঁয়ে যিনি এমপি রয়েছেন, তার ছেলে চাঁদাবাজির কারণে থানায় গিয়ে মুচলেকা দিতে হয়েছে। বাপ হচ্ছে এমপি, ছেলে করে চাঁদাবাজি, থানায় গিয়ে দেয় মুচলেকা।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সারা বাংলাদেশে গ্যাসের হাহাকার, কিন্তু আমরা দেখলাম রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গ্যাস লাইনের অবৈধ সংযোগ নিয়ে কিছু কারখানা প্রতি বছর লাখ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। আরেকটা গ্রুপ রয়েছে, বসুন্ধরা—তারা শত শত মাইল জমি দখল করে নিচ্ছে এবং তাদের কিছু মিডিয়ার মাধ্যমে সেসবের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি ২০০ টাকা আয় করলে ৫০ টাকা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলকে চাঁদা দিতে হয়, স্থানীয় এমপিদের চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদাবাজির বাংলাদেশ আর চলবে না। আপনারা যদি মনে করেন এই চাঁদাবাজির যাত্রা অব্যাহত রাখবেন, মনে করার দরকার নেই এভাবে বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারবেন। হাসিনার হয়তো ১৭ বছর লেগেছে। প্রতি বছর জুলাই হয় না, কিন্তু যখন জুলাই হয়, তখন পালানোর জায়গা পাবেন না।
সজল
মন্তব্য করুন: