সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
পাঁচ বছরেও মেলেনি জমি অধিগ্রহণের টাকা: ভোগান্তিতে শত শত পরিবার
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবেষ্টনী ও নিরাপত্তা টহল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের নোটিশ জারির পর দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে পাননি ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা। সরকারের অধিগ্রহণের গ্যাঁড়াকলে পড়ে জমি কেনাবেচা, খাজনা দেওয়া কিংবা ঘরবাড়ি সংস্কার করতে না পেরে চরম মানবিক ও পারিবারিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন সিলেট সদর উপজেলার শত শত পরিবার।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিমানবন্দরের এই মেগা প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৫১ একর জায়গা অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন ২০১৭-এর ৪ ধারা অনুযায়ী নোটিশ জারি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, এই নোটিশ জারির পর থেকে প্রকল্প এলাকার জমির সব ধরনের কেনাবেচা, হস্তান্তর ও নামজারি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ভুক্তভোগী শায়েস্তা মিয়া ও বুলবুল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৬ বছর ধরে জমি আটকে থাকায় তাঁরা ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারছেন না; এমনকি সন্তানদের বিয়ে, গৃহ নির্মাণ বা চিকিৎসার মতো জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনগুলোও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষতিপূরণের টাকা পেলে তাঁরা অন্তত অন্য কোনো নতুন জায়গায় জমি কিনে স্থায়ীভাবে পরিবার নিয়ে বসবাস করতে পারতেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, ক্ষতিপূরণের দাবিতে গত ৫ বছর ধরে জেলা প্রশাসন ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, এখনো সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তার স্বাক্ষরই সম্পন্ন হয়নি। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জেলা প্রশাসন দায় চাপাচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর, আর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে বিষয়টি জেলা প্রশাসন দেখছে। এর আগে সাবেক জেলা প্রশাসক দুই মাসের মধ্যে ৭ ধারার নোটিশ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তাঁর বদলির পর তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমেদ জানান, সিভিল এভিয়েশনের প্রশাসন শাখা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন থেকে পরিচালকের (প্রশাসন) একটি অথেন্টিকেশন ফাইল তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী রবি বা সোমবারের মধ্যে ফাইলটি অনুমোদিত হয়ে ফিরলে পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। অন্যদিকে, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নুরের জামান চৌধুরী দীর্ঘসূত্রতার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, একাধিকবার প্রকল্পের মূল প্রস্তাব পরিবর্তন করায় প্রক্রিয়াটি কিছুটা দীর্ঘ হয়ে গেছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফাইল চালাচালি শেষ করে এই জটিল সংকটের সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: