সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা: অভিযুক্তের বাড়িতে আবারও হামলা ও ভাঙচুর
সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানার সোনাতলা এলাকায় চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার জাকির হোসেনের বাড়িতে দ্বিতীয় দফায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ফাহিমা হত্যার দ্রুত বিচার ও জাকিরের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। ভাঙচুরের সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের আধাপাকা ঘরটির টিনের চাল উপড়ে ফেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যাওয়া পুলিশকে লক্ষ্য করে 'ভুয়া ভুয়া' স্লোগান দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে সোনাতলা এলাকাবাসী যখন ফাহিমা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করছিলেন, ঠিক তখনই ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন গ্রেপ্তারকৃত জাকিরের ভাই জয়নাল আবেদিন জয়। পোস্টে তিনি গত ১১ মে প্রথম দফার হামলায় তাঁদের বাড়ি ভাঙচুরের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং একই সাথে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তিও দাবি করেন। তবে এই ফেসবুক স্ট্যাটাসটির কথা জানাজানি হলে জুমার নামাজের পর এলাকাবাসী আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং দলবদ্ধ হয়ে জাকিরের বাড়িতে দ্বিতীয় দফায় হামলা ও ভাঙচুর চালান। জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে বোঝানোর চেষ্টা করলে তারা উল্টো মারমুখী হয়ে ওঠে, পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে সোনাতলা গ্রামের রাইসুল হকের মেয়ে ফাহিমা আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ পাশের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ১১ মে সোনাতলা পশ্চিমপাড়ার তোতা মিয়ার ছেলে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন মহানগর পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিশুটিকে চকোলেট বা সিগারেটের প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে জাকির এবং শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে গলা টিপে হত্যা করে লাশ প্রথমে ব্রিফকেসে ও পরে ডোবায় লুকিয়ে রাখে। অভিযুক্ত জাকির হোসেন ইতিমধ্যে আদালতে ফাহিমাকে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: