মধ্যনগরে নদী সাঁতরে স্কুলে যায় শতাধিক শিশু: ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান
অল্প বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢলে ফুলে-ফেঁপে ওঠে রূপেশরী নদী। সেই উত্তাল স্রোতের মধ্যেই বই-খাতা মাথার ওপর তুলে নদী সাঁতরে স্কুলে যেতে হয় কোমলমতি শিশুদের। প্রতিদিন এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ও শ্রীপুর গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী ঘিলাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বুধবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের এমন বিপজ্জনক নদী পারাপারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর ও শ্রীপুর গ্রামে কোনো বিদ্যালয় না থাকায় ওই দুই গ্রামের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে ঘিলাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। নদী পার হওয়ার জন্য কোনো নৌকা, সেতু কিংবা বাঁশের সাঁকো না থাকায় বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাঁতরেই চলাচল করতে হচ্ছে। ঘিলাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নগ্নজিতা হাজং জানান, বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের। সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢল নামলে শিশুদের জন্য স্কুলে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তিনি নিজেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন।
শ্রীপুর গ্রামের অভিভাবক কল্যাণী হাজং বলেন, "প্রতিদিন সন্তানদের নদী পার হতে দেখে আতঙ্কে থাকি। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়, তবুও পড়াশোনার তাগিদে ঝুঁকি নিতেই হচ্ছে।"
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দীনি হাজং আক্ষেপ করে জানায়, নদী পার হতে গিয়ে প্রায়ই বই ও জামা-কাপড় ভিজে যায়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন এ বিষয়ে জানান, শিক্ষার্থীদের পারাপার ঝুঁকিমুক্ত করতে তিনি দ্রুতই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এই দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কয়েক গ্রামের মানুষ।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: