সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা সুনামগঞ্জের বয়োবৃদ্ধ গফ্ফার মিয়া
জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে চরম অনিশ্চয়তা আর শোকের সাগরে ভাসছেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের বৃদ্ধ গফ্ফার মিয়া (৬১)। গত ৩ মে সিলেটে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর দুই কর্মক্ষম সন্তান আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিনের অকাল মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পাঁচ বছর আগে ছোট ছেলেকে হারানো গফ্ফার মিয়া গত রবিবারের দুর্ঘটনায় তাঁর বাকি দুই সন্তানকেও হারিয়ে এখন নির্বাক। নিহত বড় ছেলে আজির উদ্দিনের ছোট তিনটি সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী; অন্যদিকে মেজো ছেলে আমির উদ্দিনকে এবার বিয়ে করানোর স্বপ্ন ছিল বাবার।
বুধবার (৬ মে) গফ্ফার মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ভাঙা চালার একটি ঘরে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন স্বজনেরা। ছেলেদের ইচ্ছা ছিল বাড়িতে ফিরে ফুটো হয়ে যাওয়া চালের ঘরটি মেরামত করার, কিন্তু সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে লাশের মিছিলে।
কান্নায় ভেঙে পড়ে গফ্ফার মিয়া বলেন, ‘ছেলেরা ঘর ঠিক করতে চেয়েছিল, এখন আমি এই পঙ্গু শরীরে পুরো সংসারের ঘানি কীভাবে টানব? এখন যদি কেউ ঘরটা ঠিক করে দিতেন, তবে শেষ বয়সে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম।’
একই আকুতি ঝরে পড়ে মা শামসুর নাহারের কণ্ঠেও।
প্রতিবেশী আজব ও তানজিল আলী জানান, এক পরিবারের দুই ভাইয়ের এই করুণ মৃত্যু পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই দুর্ঘটনায় নিহত আটজনের মধ্যে ছয়জনই সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার নির্মাণশ্রমিক।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মতিন খান জানান, তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটিকে ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে এবং ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন প্রদান করা হবে; এছাড়া নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার বিষয়েও সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: