শ্রীমঙ্গলে স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়ম, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ২২ হাজার শিক্ষার্থী
Led Bottom Ad

শ্রীমঙ্গলে স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়ম, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ২২ হাজার শিক্ষার্থী

শাহিন আহমেদ,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

০৭/০৫/২০২৬ ১৬:০৭:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং (মিড-ডে মিল) কর্মসূচিতে অনিয়ম, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত এই কর্মসূচিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে বাস্তবে পুষ্টিকর খাবারের বদলে অনেক বিদ্যালয়ে নিম্নমানের বনরুটি, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য, দুর্গন্ধযুক্ত দুধ ও নষ্ট ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কুলাউড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্স শুরু থেকেই মান বজায় না রেখে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি এক সপ্তাহ ধরে খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।


একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী খাবার না পাওয়া, পরিমাণে কম সরবরাহ এবং দেরিতে খাবার পৌঁছানোর কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর খাবার সরাসরি ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন শিক্ষকরা।


শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করেছে, আগে নিয়মিত খাবার পেলেও এখন প্রায়ই শুধু বনরুটি বা একক আইটেম দেওয়া হয়, যা খেতে অনেক সময় কষ্ট হয়। পাশাপাশি দুর্গন্ধযুক্ত দুধ ও নষ্ট ডিম পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানায়।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করা হলেও অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তারা বলছে, ফ্যাক্টরির সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।


শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, নিম্নমানের খাবার ও অনিয়মের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশের প্রস্তুতি চলছে।


এদিকে, স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল এই অনিয়মের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগে এমন অব্যবস্থাপনা উদ্বেগজনক।


শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরবরাহকৃত খাবার মানসম্মত না হলে শিশুদের শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


বর্তমানে পুরো ঘটনায় প্রশাসনিক নজরদারি ও ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad