সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা
কমলগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবরের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের ব্যাংক ঋণে বাধা প্রদান, নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাব এবং বৃত্তি পরীক্ষায় নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এনামুর রহিম বাবর এর আগে সুনামগঞ্জে কর্মরত থাকাকালীন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার দায়ে শোকজ এবং বদলির আদেশ পেলেও রাজনৈতিক প্রভাবে দীর্ঘ সময় একই স্থানে বহাল ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কমলগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে শিক্ষকদের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে।
বর্তমানে উপজেলার শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তিতে অসহযোগিতা। রূপালী ব্যাংক কেরামতনগর শাখার ব্যবস্থাপক প্রমোদ সিনহা জানান, বর্তমান শিক্ষা কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে কোনো শিক্ষকের ব্যাংক ঋণের ফর্মে স্বাক্ষর না করায় শিক্ষকরা নতুন কোনো ঋণ নিতে পারছেন না। শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনেও তাঁরা ঋণ পাচ্ছেন না এবং শিক্ষা কর্মকর্তা কোনো পরামর্শ ছাড়াই নিজের ইচ্ছেমতো অফিস পরিচালনা করছেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে ‘ডেপুটেশন বাণিজ্য’ চালানোরও অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার এই বেহাল চিত্রের প্রতিফলন দেখা গেছে গত শনিবারের বৃত্তি পরীক্ষায়। উপজেলার দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষককে ওই কেন্দ্রের হল সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষা অফিসের সমন্বয়হীনতার কারণে এবারের পরীক্ষায় ১ হাজার ১৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৩ জনই অনুপস্থিত ছিল। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর দাবি করেছেন, পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম হয়নি এবং নিয়ম মেনেই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। কমলগঞ্জের ১৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: