‘বেঁচে ফিরব ভাবিনি’
যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে ইরান থেকে গ্রামে ফিরলেন বাবুল
“পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান ওড়ে, একটু পরপর মিসাইলের বিকট শব্দ। প্রায় ২০ দিন ভাত না খেয়ে শুধু শুকনো খাবার খেয়ে ঘরবন্দি ছিলাম। মনে হয়েছিল দেশ বা পরিবারের মুখ আর দেখা হবে না।”—এভাবেই যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করছিলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা গ্রামের বাবুল মিয়া। ইরানের তেহরান সংলগ্ন হাসিনাবাদ এলাকার একটি স্টিল কোম্পানিতে কর্মরত এই প্রবাসী গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ সহায়তায় আজারবাইজান হয়ে দেশে ফিরেছেন।
২০১৯ সালে ওমান হয়ে ইরান পাড়ি জমানো বাবুল জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে বিকট শব্দে তাদের ভবন কেঁপে ওঠে। সকালে কর্মক্ষেত্রে গিয়ে জানতে পারেন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং তেহরান থেকে দূতাবাস সরিয়ে সাভেহ শহরে নেওয়া হয়। বাবুল বলেন, “আমাদের কোম্পানির পাশের স্কুলে হামলা হয়ে অনেক শিশু মারা যায়। চোখের সামনে পুলিশ ফাঁড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যেতে দেখেছি। সরকার থেকে কোনো নির্দেশনা না থাকায় এবং হাতে টাকা না থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কেটেছে।”
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ১০ মার্চ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাবুল। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২৮ মার্চ ট্রাভেল পাস পান তিনি। এরপর ৯টি বাসে করে অন্য বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে আস্তারা সীমান্ত দিয়ে আজারবাইজানে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে আজারবাইজান ও তুরস্কের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে বাকু বিমানবন্দর হয়ে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। মৃত্যুপুরী থেকে অক্ষত অবস্থায় মা-বাবা আর স্ত্রী-সন্তানের কাছে ফিরতে পেরে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: