সুরমা নদীতে শত শত নৌযান নোঙর করা
জ্বালানি সংকটে অচল ছাতক নৌবন্দর
বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী সুনামগঞ্জের ছাতকের নৌপরিবহন ব্যবস্থায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে ছাতক নৌবন্দর থেকে পণ্য পরিবহন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে সুরমা নদীর তীরে শতাধিক নৌকা, বাল্কহেড ও কার্গো অলস বসে আছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বালু, পাথর ও সিমেন্ট ব্যবসায়।
ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের অভিযোগ, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে স্থানীয় বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। আগে যেখানে এক ব্যারেল ডিজেল ২০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ২৫ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাম্পে তেল না পেয়ে খুচরা দোকান থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন চালকরা। এমভি সৈয়দ আবদুর রইফ শাহ নৌকার মাঝি মানিক মিয়া জানান, ঢাকা থেকে চুনাপাথর নিতে এসে কয়েক দিন ধরে তেলের জন্য নোঙর করে বসে আছেন তিনি। একই অবস্থা এমভি এসইমিলি কার্গোর মাস্টার হোসাইন শেখের; তিনি জানান, পাম্পে তেল নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর বাইরে কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
জ্বালানি সংকটের এই ঢেউ লেগেছে কৃষি খাতেও। চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটার জন্য কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিন চালাতে প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না কৃষকরা। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, কৃষকদের পক্ষ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পাম্পগুলো থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ নৌপরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ছাতক শাখার সভাপতি এনামুল হক এলেমান এই ‘তেল সিন্ডিকেট’ ভাঙতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোম্যাসি চাকমা জানান, তেলের বাজার মনিটরিংয়ে প্রতিটি পাম্পে নজর রাখা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানও একই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ঐতিহ্যবাহী এই নৌবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: