‘প্রেসক্রিপশন আছে, ওষুধ নেই’
হাতে প্রেসক্রিপশন, চোখে ভরসা—কিন্তু শেষমেশ শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে। সিলেটের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এমনই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন অসংখ্য অসহায় রোগী।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালসহ একাধিক সরকারি হাসপাতালে গত প্রায় দুই মাস ধরে তীব্র ওষুধ সংকট চলছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা এতদিন বিনামূল্যের সরকারি ওষুধের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
রোগীরা জানাচ্ছেন, চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ পেলেও হাসপাতালের ফার্মেসিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। অনেকেই সেই খরচ বহন করতে না পেরে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখেই বাড়ি ফিরছেন।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি নির্দিষ্ট সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব ওষুধ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আর কোনো ওষুধ আসেনি। ফলে মজুত শেষ হয়ে গিয়ে হাসপাতালগুলোতে এখন কার্যত ওষুধের শূন্যতা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতাল-এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা নিয়মিত চাহিদা পাঠাচ্ছি, কিন্তু সরবরাহ না থাকায় কিছুই করতে পারছি না। প্রতিদিন অনেক রোগী ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা আমাদের জন্যও অত্যন্ত দুঃখজনক।”
সচেতন মহলের মতে, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ সংকট মানে দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া। তারা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগীদের কষ্ট, চিকিৎসকদের অসহায়ত্ব এবং ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে সিলেটের স্বাস্থ্যসেবায় এক গভীর সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: