আতঙ্কে যাত্রীরা
সিলেট-আখাউড়া রেলপথে বাড়ছে দুর্ঘটনা: ৮ বছরে ১৬টি বড় বিপর্যয়
সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ট্রেন দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ১৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে গত ৮ বছরে অন্তত ১৬টি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। জরাজীর্ণ লাইন, নাট-বোল্ট ও ফিশপ্লেট চুরি, পাথরের স্বল্পতা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনের কারণে এই রুটটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপবন, জয়ন্তিকা এবং পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের মতো আন্তঃনগর ট্রেনগুলো বারবার লাইনচ্যুত ও বিকল হওয়ায় রেল ভ্রমণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেক যাত্রী।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৮৯১ সালে নির্মিত এই ব্রিটিশ আমলের রেলপথে পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্লিপার ভেঙে গেছে এবং অধিকাংশ সেতুর মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিন সংকটের কারণে বিরতিহীনভাবে ট্রেন চালাতে গিয়ে লোকোমোটিভগুলো প্রায়ই মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ছে। ২০১৯ সালে কুলাউড়ার বরমচালে উপবন এক্সপ্রেসের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহতের স্মৃতি এখনো কাটেনি, এরই মধ্যে গত ২ এপ্রিল হবিগঞ্জের মনতলায় তেলবাহী ট্রেনের ৬টি ট্যাঙ্কার লাইনচ্যুত হয়ে ১১ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে মোগলা বাজারে উদয়ন এক্সপ্রেস এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেঞ্চুগঞ্জ রেলসেতুতে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনাগুলো এই সেকশনের নাজুক অবস্থাকেই ফুটিয়ে তোলে। নিয়মিত সিডিউল বিপর্যয়ের পাশাপাশি গত এক মাসে অন্তত ৪০টি ট্রেন ইঞ্জিন বিকল হয়ে বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছেছে।
সিলেট-আখাউড়া সেকশনের এই অন্তহীন সংকটের কথা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। গণপূর্ত প্রকৌশলী (রেল) সাইফুল্লাহ রিয়াদ জানান, রেলপথ সংস্কারে ১ হাজার ৮২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের টেন্ডার বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানান, সারা দেশে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনের মাত্র ৭০ শতাংশ বিদ্যমান থাকায় সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।
তবে যাত্রী সাধারণের দাবি, টেন্ডার বা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দোহাই না দিয়ে অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথের ক্লিপ, স্লিপার ও জরাজীর্ণ সেতুগুলো সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করা হোক।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: