আজমিরীগঞ্জে এলডিডিপি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
Led Bottom Ad

আজমিরীগঞ্জে এলডিডিপি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৭/০৪/২০২৬ ১৭:৫৩:২৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের নামে সরকারি বরাদ্দের পুরো টাকা উত্তোলন করা হলেও এর একটি বড় অংশ তাদের হাতে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়নে ২৯ সদস্যের একটি প্রডিউসার গ্রুপ গঠন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি সদস্যের জন্য ২০ হাজার টাকা করে মোট ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ অর্থ দিয়ে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট শেড’ নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।


প্রকল্প–সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ মে বরাদ্দ ছাড় করা হয় এবং ২৭ জুনের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। একই সঙ্গে ব্যয়ের তথ্য পরবর্তীতে নিরীক্ষার জন্য এফএপিএডির আওতায় আনার কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে ২০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হলেও হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকা। বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। এ হিসাবে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।


সরেজমিনে শিবপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোথাও ‘ক্লাইমেট স্মার্ট শেড’ নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় শেষ হলেও দৃশ্যমান কোনো অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি।


প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির এক সদস্য জানান, তিনি এ প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং কোনো নথিতে স্বাক্ষরও করেননি। এতে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল কাশেম বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় দ্রুত উপকারভোগীদের মধ্যে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। চেকের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে, কোনো অর্থ কম দেওয়া হয়নি।


জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের মধ্যে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং উপকারভোগীরা নিজেরাই ঘর নির্মাণ করবেন।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad