জিন্দাবাজারে ওভারসিজ সেন্টার ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত: জেলা প্রশাসন ও লিজগ্রহীতারা মুখোমুখি
সিলেটের ব্যস্ততম এলাকা জিন্দাবাজারে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ ওভারসিজ স্টোর ট্রাস্ট’ (ওভারসিজ সেন্টার) ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও ভবনের লিজগ্রহীতাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ১৯৭৮ সালে প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও সেবার কথা মাথায় রেখে নির্মিত এই ভবনটি বর্তমানে সংস্কারের অভাবে নাজুক অবস্থায় থাকলেও লিজগ্রহীতারা উচ্ছেদের নোটিশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, ভবনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে দোকান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন। রিটের প্রেক্ষিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত জেলা প্রশাসককে শোকজ করে দুই সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন ছাড়া ভবন ভাঙা কেন অবৈধ হবে না—আদালত তা জানতে চেয়েছেন।
লিজগ্রহীতাদের অভিযোগ, বড় অংকের সালামি দিয়ে পজিশন নিলেও তাদের স্থায়ী ইজারা দেওয়া হয়নি এবং বর্তমানে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের এই ভবনের সিঁড়ি ও দেয়ালগুলো অত্যন্ত জীর্ণ। নিচতলায় ১২টির মতো দোকান থাকলেও ওপরের তলাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ।
জেলা প্রশাসন বলছে, জননিরাপত্তা ও আধুনিকায়নের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের রুল ও লিজগ্রহীতাদের অনড় অবস্থানের কারণে ঐতিহাসিক এই সেন্টারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জিন্দাবাজার এলাকায় চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: