প্রথম সিলেটে সংবাদ প্রকাশের পর
জকিগঞ্জে অপহৃত সংখ্যালঘু যুবক বিমল বিশ্বাস উদ্ধার
জকিগঞ্জে অপহৃত যুবক বিমল বিশ্বাসকে ১০ মার্চ কানাইঘাটের সীমান্ত এলাকা ডনার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপহরণের ঘটনা প্রথম প্রকাশিত হয় ৯ মার্চ মানবাধিকার সংস্থা এইচআরসিবিএমের সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায়ের বরাত দিয়ে নিউজ পোর্টাল ‘প্রথম সিলেট ডটকম’-এ। সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ভিকটিমের পরিবার জানিয়েছে, উদ্ধার প্রক্রিয়ায় পুলিশের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা দেখা যায়নি। বরং অপহরণের পরদিন ভিকটিমের বড় ভাই অমল বিশ্বাস বারবার থানায় গিয়ে মামলা দিতে চেষ্টা করেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে মামলা গ্রহণ করেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অপহরণটি মূলত ঋণসংক্রান্ত বিরোধের কারণে ঘটেছে। কয়েক বছর আগে বিমল বিশ্বাস ২৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে সুদ পরিশোধ করলেও অপহরণকারীরা তাকে পুনরায় তুলে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল।
পরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপে ভিকটিমকে পরিবারের কাছে ফেরানো হলেও সালিশে সমাধান না হওয়ায় ১২ মার্চ বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদে পুনরায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবি, পুলিশ অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ভিকটিমের বড় ভাই অমল বিশ্বাস বাদী হয়ে অপহরণ ঘটনার পরদিন ১০ মার্চ জকিগঞ্জ থানার অপহরন মামলা দিতে বার বার চেষ্টা চালালেও পুলিশ রহস্যজনক কারনে মামলা নেয়নি। স্হানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে সালিশ বিচার মানতে ভিকটিম পরিবার হুমকি দেওয়া অভিযোগ রয়েছে ।তবে অপহরনকারীদের সহযোগিতায় দরিয়াপুরে সাবেক মেম্বার আব্দুল আজিজ ও খারিজা গ্রামের কমরু মিয়ার ও জামাল আহমদের নেতৃত্বে ভিকটিম বিমল বিশ্বাস কে গত ১০ মার্চ গভীর রাতে জকিগঞ্জ থানায় পুলিশের কাছে হস্তন্তর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ সালিশে সমাধানের জন্য বিচারে নামে লিখিত নিয়ে ভিকটিম বিমল বিশ্বাস কে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেন। অপহরনকারীদের ঘনিষ্ঠরা সালিশে সমাধানের লক্ষে আজ বুধবার বিকাল ৩ টায় ভিকটিমের বাড়ীতে সালিশ বৈঠকের ডাক দেন, সালিশে বসলেও অপহরনকারীরা উপস্থিত না থাকায় আগামী কাল (১২ মার্চ) বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পুনরায় সালিশ বিচারে বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: