শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তাল শাবিপ্রবি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রোববার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ। একই দাবিতে রাজধানীতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
এদিকে শাকসু নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিবির সমর্থিত দুর্বার ও সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্যানেল সাধারণের ঐক্যস্বর-এর প্রার্থীরা। পরে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে শিবির সমর্থিত প্যানেল।
সংবাদ সম্মেলনে ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব নির্বাচন বন্ধের ঘোষণা দিয়ে শাকসু নির্বাচনকে টার্গেট করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে নির্বাচন কমিশন নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। সবকিছুর পর যখন প্রার্থীরা প্রচারণায় মনোযোগী হয়েছেন, তখন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আবারও শাকসু বন্ধসহ তিন দফা দাবি তোলা হচ্ছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিতে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া আইনসম্মত নয়।
রিট দায়ের ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচির খবরে রোববার দুপুরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
তবে এসবের মধ্যেও শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশন। রোববার কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটার ও গণমাধ্যমের জন্য নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের প্রচারণার সময়সীমা আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়। ফলে রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত প্রচারণার সুযোগ পান প্রার্থীরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিটকারী মমিনুর রশিদ শুভর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে রিটের সর্বশেষ অবস্থান জানা যায়নি।
এদিকে শাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ রোববার নিজের ফেসবুক পোস্টে বলেন,
“সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সব সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য নয়। এটি ছাত্রদলের একক প্যানেলও নয়। এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। ভিপি প্রার্থী হিসেবে স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আমরা শাকসুর পক্ষে এবং ২০ জানুয়ারি নির্বাচন চাই। কেউ যদি শাকসুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, আমরাও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হবো।”
শাকসু নির্বাচন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: