সিলেটে সিলিন্ডার গ্যাসের তীব্র সংকট, নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি
সিলেটে সিলিন্ডার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে—কোথাও কোথাও দ্বিগুণ দামে—এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। আবার কিছু এলাকায় অতিরিক্ত দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, খুচরা পর্যায়ের কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছেন। নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি না করে মজুত রেখে পরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে রান্নার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তবে ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এলপিজির সংকট তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সংকটের কোনো বাস্তব কারণ নেই।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন স্থানীয় অনেক গ্রাহক। সিলেট নগরের পীর মহল্লা এলাকার বাসিন্দা জুনেদ আহমেদ বলেন, সুবিদবাজার, আম্বরখানা ও পাঠানটুলা এলাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকার কথা বললে ব্যবসায়ীরা লোকসানের কথা বলে বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ জানাতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও ফোনে সংযোগ পাওয়া যায় না। এলপিজির বাজারে কার্যত অরাজকতা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে দ্রুত সংকট নিরসন এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সিলেটের সাধারণ গ্রাহকরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: