সিলেট-২ আসনে প্রার্থীদের আয়–সম্পদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতায় ব্যাপক বৈষম্য
Led Bottom Ad

সিলেট-২ আসনে প্রার্থীদের আয়–সম্পদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতায় ব্যাপক বৈষম্য

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০১/০১/২০২৬ ১৩:১৫:০৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে প্রার্থীদের মধ্যে শুধু রাজনৈতিক অবস্থানেই নয়, বরং আয়, সম্পদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও স্পষ্ট বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই আসনে উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবী প্রার্থীদের পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন তিনজন স্বশিক্ষিত প্রার্থীও।

হলফনামার তথ্যে বার্ষিক আয়ের হিসাবে সবচেয়ে সচ্ছল অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ। যদিও হলফনামায় তিনি আয় ও সম্পদের বিস্তারিত উল্লেখ করেননি, তবে ফরম-২০, ২১ ও আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৫০ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়ের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী। তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং তার ছেলে, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াস—উভয়ের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৭ টাকা করে।

অন্যদিকে আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে নিচের সারিতে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জামান আহমদ সিদ্দিকী (বার্ষিক ২০ হাজার টাকা), গণফোরাম প্রার্থী মো. মুজিবুল হক (২৫ হাজার টাকা) এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (৪৬ হাজার টাকা)।

এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নানের বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. আমির উদ্দিনের আয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

সম্পদের আর্থিক মূল্যের বিবেচনায় সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তার অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৭৫ লাখ টাকা—সব মিলিয়ে মোট সম্পদ ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলীর মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি।

জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াসের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা।

অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আমির উদ্দিনের কোনো স্থাবর সম্পদ নেই; তার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর এক কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ থাকলেও নগদ অর্থসহ অস্থাবর সম্পদ মাত্র ৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

গণফোরামের মো. মুজিবুল হকের সম্পদ ৫৭ লাখ টাকা এবং গণঅধিকার পরিষদের জামান আহমদ সিদ্দিকীর সম্পদ ৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুস শহীদের বার্ষিক আয় বেশি হলেও তার মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকা।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ একজন ব্যারিস্টার। বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা স্নাতকোত্তর, খেলাফতের মুনতাছির আলী এমবিএ, জামায়াতের আব্দুল হান্নান এমকম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াস স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। গণফোরামের প্রার্থী মো. মুজিবুল হক এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের ভিড়েও নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন তিনজন স্বশিক্ষিত প্রার্থী—জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের মো. আমির উদ্দিন এবং গণঅধিকার পরিষদের জামান আহমদ সিদ্দিকী।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad