শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৬ ডিগ্রিতে
সিলেট-মৌলভীবাজারসহ ১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ
সিলেট ও মৌলভীবাজারসহ দেশের ১৭ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিন ধরে সিলেট অঞ্চলে শীত তীব্র আকার ধারণ করলেও বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তা শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে বৃহস্পতিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলার ৯৩টি চা বাগানের চা শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ১৪.৬ ডিগ্রি, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ১৪.৬ ডিগ্রি, রোববার ১২ ডিগ্রি এবং শনিবার ১৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশার কারণে প্রকৃত শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় তা প্রশমিত হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে তীব্র শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই কাজে যেতে হচ্ছে চা শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীদের। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে শীতের মধ্যে কষ্ট করে কাজ করছেন তারা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের অনেককেই খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাত ও সকালে ঠান্ডার প্রকোপে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে।
বুধবার সারাদিন কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ থাকায় সূর্যের দেখা মেলেনি। একই অবস্থা বৃহস্পতিবার সকালেও দেখা গেছে। এতে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমবে—এমন আশা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। তবে ফুটপাত ও বাজার এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের গরম কাপড় কেনাবেচা বেড়েছে।
অন্যদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রতিদিন শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের মধ্যে সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, “কয়েকদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বর্তমানে শ্রীমঙ্গল অঞ্চলের ওপর মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: