থমকে আছে সিলেটের কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট চারলেন প্রকল্প
Led Bottom Ad

চার বছরে ৬০ শতাংশ কাজ, ফের মেয়াদ বাড়ছে

থমকে আছে সিলেটের কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট চারলেন প্রকল্প

প্রথম ডেস্ক

২০/১২/২০২৫ ১৪:৩০:৫৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট চারলেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি এখন কচ্ছপ গতির কবলে পড়েছে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া আড়াই বছর মেয়াদি এই প্রকল্প চার বছর পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও একাধিক মামলার কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের জুনের পর আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৬ কিলোমিটার এলাকায় জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কোনো জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় বাড়ানোর জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যেসব জায়গায় জমি অধিগ্রহণে জটিলতা রয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে বিকল্প জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে ছয় মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে প্রতিদিন শত শত পাথরবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচল করে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নগরীর ভেতরে ট্রাক চলাচলের চাপ কমাতে কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক নির্মাণের দাবি ওঠে। সিলেটবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২-১৪ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে চারলেনে উন্নীত করার দাবিতে ২০১৬ সালে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। নানা সংশোধন ও জটিলতা শেষে ২০২২ সালে চারলেন সড়ক নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়।

সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, প্রায় ৭২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির আওতায় ১১ দশমিক ৮৭১ কিলোমিটার চারলেন সড়ক রিজিড পেভমেন্ট এবং ০ দশমিক ৭ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দুটি পিসি গার্ডার সেতু, ২৪টি আরসিসি কালভার্ট, দুটি লিংক রোড, ছয়টি বাস-বে, আরসিসি ড্রেন, ফুটপাত, ট্রাফিক সিগন্যাল ও সড়ক সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩১ দশমিক ৮২ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪২ কোটি ১২ লাখ টাকা। প্রতি কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৭ কোটি টাকা।

সওজ জানায়, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত চারটি মামলা, একটি পেট্রোল পাম্প সংক্রান্ত মামলা এবং উচ্চ আদালতে দায়ের করা একটি রিটের কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু থেকেই ধীরগতিতে চলছে। চারটি মামলার মধ্যে দুটি নিষ্পত্তির পথে থাকলেও বাকি দুটি শেষ হতে আরও সময় লাগবে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ আগে ১৮ ফুট প্রশস্ত হিসেবে রেকর্ড থাকলেও ২০২৩ সালের বিএস জরিপে সেটি ৬৪ ফুট দেখানো হয়েছে। ধুপনিখলা মৌজার দেড় কিলোমিটার অংশ ১৮ ফুট রাখার দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা কাজে বাধা দিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমারগাঁও থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পর্যন্ত অংশে সড়ক ও ড্রেনেজের কাজ প্রায় শেষ। তবে নয়াবাজার-বাদাঘাট রোড মসজিদ ও সোনাতলা বাজারের একটি পারিবারিক কবরস্থানের কারণে কিছু জায়গায় কাজ বন্ধ রয়েছে। ধুপনিখলা মৌজার দেড় কিলোমিটার অংশে কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেক্টা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “১২ কিলোমিটারের মধ্যে ৪ কিলোমিটার অংশে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন ছিল না, সেখানে কাজ প্রায় শেষ। বাকি অংশে জমি জটিলতার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।”

সওজ সিলেটের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সালাহ্‌উদ্দিন সোহাগ বলেন, “চারটি মৌজায় জমি সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। তবে সমাধানের পথে রয়েছে। ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান, ধুপনিখলা মৌজায় স্থানীয়দের বাধার কারণে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা হচ্ছে এবং ঠিকাদারের লোকজনকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে ছয় মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব।”

চারলেন সড়কটি চালু হলে নগরীর যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে—এমন প্রত্যাশা সিলেটবাসীর। তবে জমি অধিগ্রহণ ও স্থানীয় বিরোধের জটিলতা কাটাতে না পারলে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও দীর্ঘসূত্রতায় পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad