ঢাকায় ভূমিকম্পের পর সিলেটে আতঙ্ক
ঢাকায় ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর সিলেটেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘনঘন ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠা সিলেটকে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ‘ডেঞ্জার জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা স্থানীয় ফল্ট বা চ্যুতিগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠায় ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়ছে।
ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের কারণে সিলেট দেশের অন্যতম ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। এর প্রধান কারণ ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি ফল্ট। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন এ ফল্ট থেকে উৎপত্তি হওয়া বড় ভূমিকম্পে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ‘বড় ভুইছাল’ নামে পরিচিত। এরপর বেশ কয়েকবার ওই ফল্ট থেকে ভূমিকম্প হলেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে সক্রিয় এ ফল্ট বারবার বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
২০২১ সালের মে মাসে টানা ১০ দিনে সিলেটে ২০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কয়েকটির উৎপত্তিস্থল ছিল ডাউকি ফল্টের কাছে, বাকিগুলোর সিলেট বিভাগে। সে সময় ভবনঝুঁকি নিরূপণে উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। ২২টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিতও করা হয়। তবে বাজেট সংকটের অজুহাতে ভবন পর্যবেক্ষণ–সংক্রান্ত উদ্যোগ পরে থেমে যায়। চিহ্নিত ভবনগুলোর কিছুতে সামান্য সংস্কার হলেও বেশির ভাগই আগের মতোই রয়ে গেছে।
ঢাকায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সিলেটের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, একই মাত্রার ভূমিকম্প সিলেটে অনুভূত হলে পুরোনো ও দুর্বল ভবনগুলো টিকবে না।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক জহির বিন আলম ঢাকার ভূমিকম্পকে সিলেটের জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ঢাকায় অনুভূত ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মধুপুর ফল্ট এত দিন নিষ্ক্রিয় ছিল। এখন এটি সক্রিয় হওয়া উদ্বেগের বিষয়। সিলেটে এরকম বহু ছোট ও নিষ্ক্রিয় ফল্ট রয়েছে, যেগুলো থেকে গত কয়েক বছরে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়েছে। এসব ফল্ট লাইনকেও এখন গুরুত্ব দিতে হবে।
সিলেটে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে পুরোনো ও নন-ইঞ্জিনিয়ারিং ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, সিলেটকে নিরাপদ রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর দ্রুত পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও সংস্কার জরুরি।
দুর্যোগ–মোকাবেলায় সিলেটের সক্ষমতা আগের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বলে জানান অধ্যাপক জহির বিন আলম। তাঁর ভাষায়, “ডিজাস্টার সেন্টার হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল বাড়ানো দরকার। স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়।”
তিনি মনে করেন, সিলেট নগরের উপশহর এলাকা পুরোপুরি জলাশয় ভরাট করে গড়ে ওঠায় সেখানে উচ্চ ভবন বেশি। বড় ভূমিকম্প হলে সেই এলাকায় ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। একই সঙ্গে নগরে খোলা মাঠের স্বল্পতাও দুর্যোগ–মোকাবেলায় বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: